ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নজর ঘুরে ছিল দিল্লির দিকে। সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে উঠে এল এক জটিল বাস্তব—লক্ষ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। যদিও কিছুটা আশার ইঙ্গিত মিলেছে, তবু সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ না থাকায় সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
আদালতে জানানো হয়েছে, রবিবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৫৮ লক্ষেরও বেশি ‘অ্যাডজুডিকেশন’-এ থাকা ভোটারের নিষ্পত্তি হয়েছে। সোমবার সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন—এই নামগুলো শেষ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় জায়গা পাবে কি না—তার নির্দিষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “ট্রাইব্যুনাল নতুন নথি দেখতে পারেন। কেউ যদি মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট জমা দেন এবং তা দেখা না হয়, তা হলে আপিল ট্রাইব্যুনাল সেটি যাচাই করে দেখতে পারে। আমরা বিষয়টি আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির উপরই ছেড়ে দিচ্ছি।” একইসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি মন্তব্য করেন, “আমরা আপনার উদ্বেগ সম্পর্কে সচেতন। আমরা আগেই বলেছি, যে আপিল ট্রাইব্যুনালগুলি এই বিষয়টি দেখবে, যাতে সাংবিধানিক অধিকার বজায় থাকে।”
তবে আদালত ট্রাইব্যুনালের কাজের জন্য কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়নি। এর ফলে ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। প্রায় ৬০ লক্ষ মামলার মধ্যে এখনও বড় অংশে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, বহু জায়গায় ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি, ফলে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের সামনে আপাতত কোনও কার্যকর পথ খোলা নেই। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
আদালতে আরও জানানো হয়, নির্বাচন কমিশন চাইলে সোমবার রাতের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে পারে। তবে ডিজিটাল সিগনেচার আপলোডের জন্য পোর্টাল ৭ এপ্রিল পর্যন্ত খোলা থাকবে। একটি নির্দিষ্ট মামলার প্রসঙ্গে আদালত কমিশনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশও দিয়েছে।
ভোটের ঠিক আগে একদিকে দ্রুতগতিতে সংশোধন প্রক্রিয়া, অন্যদিকে অনিশ্চয়তা—এই দ্বৈত পরিস্থিতিই এখন রাজ্যের ভোটারদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১৩ এপ্রিল বিকেল ৩টেয়। সেই দিনই হয়তো পরিষ্কার হবে, ‘বিবেচনাধীন’ এই বিপুল সংখ্যক নামের ভবিষ্যৎ ঠিক কোন পথে এগোবে।






