গরমের শুরুতেই সতর্ক করছেন আবহাওয়াবিদরা। সামনের মাসগুলোয় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেই আশঙ্কা। কারণ, আসছে El Niño-র শক্তিশালী রূপ— ‘সুপার এল নিনো’। এর প্রভাবে শুধু তাপমাত্রা বাড়াই নয়, দেশজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টির ঘাটতির সম্ভাবনাও দেখা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এই আবহাওয়াগত পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করবে। উত্তর ও মধ্য ভারতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে, তবে পশ্চিমবঙ্গও এর বাইরে থাকবে না। কলকাতার মতো শহরে, যেখানে সাধারণত গরমে পারদ ৪০-৪৫ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করে, সেখানে এবার তা আরও বাড়তে পারে— এমনকি ৫০ ডিগ্রির কাছাকাছিও পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বৃষ্টিপাত নিয়ে। India Meteorological Department ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বার বর্ষা দুর্বল হতে পারে। জুন মাসে কেরলে বর্ষার আগমন হলেও, তার বিস্তার ও পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে। উত্তর-পূর্ব ও কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে বৃষ্টি স্বাভাবিক থাকলেও, দেশের বড় অংশেই ঘাটতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যায়, প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে তৈরি হয় এল নিনো পরিস্থিতি। এর ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া তৈরি হয়। বিপরীতে, যখন ওই জলরাশি ঠান্ডা হয়, তখন তাকে বলা হয় লা নিনা— যা অতিবৃষ্টি বা তীব্র শীতের কারণ হতে পারে।
এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু তাপমাত্রাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কৃষি, জলসংস্থান ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উপরও চাপ বাড়তে পারে। ভারতে মোট বৃষ্টিপাতের বড় অংশ বর্ষার উপর নির্ভরশীল। ফলে বৃষ্টি কম হলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি জলাধারগুলিতে জলের পরিমাণ কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে, তাপমাত্রা বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে এসি ও কুলারের চাহিদা। সেই চাহিদা মেটাতে না পারলে বাজারে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, গরমের এই মৌসুম শুধু অস্বস্তিকরই নয়, বহু দিক থেকে চ্যালেঞ্জেরও হতে চলেছে। এখন নজর মে মাসের দিকে— প্রকৃত পরিস্থিতি কতটা কঠিন হয়, সেটাই দেখার।








