সপ্তাহের শুরুতেই বাজারে মিলল স্বস্তির ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে বাড়তে থাকা সোনার দামে আচমকা পতন, যা একদিকে যেমন সাধারণ ক্রেতাদের মুখে হাসি এনেছে, তেমনই নতুন করে ভাবাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির একাধিক পরিবর্তনের জেরেই এই পতন। মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, বিশ্ব রাজনীতিতে ওঠানামা, কাঁচা তেলের দামের পরিবর্তন— সব মিলিয়ে সোনার চাহিদায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বাজারেও।
বর্তমানে ২২ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১৪,৩৯০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ১১,৮১৫ টাকা। পাশাপাশি রুপোর বাজারেও নড়াচড়া দেখা গিয়েছে— ১ কেজি রুপোর দাম হয়েছে ২,৫২,৪২৭ টাকা। উল্লেখ্য, এই দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ জিএসটি যুক্ত হবে।
এই পরিস্থিতিকে অনেকেই ‘উইন্ডো অফ অপারচুনিটি’ হিসেবেই দেখছেন। সামনে বিয়ের মরশুম, ফলে গয়না কেনার জন্য এটি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক সময় হতে পারে। একইসঙ্গে, যাঁরা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্যও নতুন করে বাজারে ঢোকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে সতর্কতার সুরও শোনা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পতন স্থায়ী নাও হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য অস্থিরতাও ফের সোনার দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো করে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাজারের গতিপ্রকৃতি বোঝা জরুরি।
গত কয়েক বছরে সোনার দামের লাগামছাড়া বৃদ্ধির জেরে অনেকেই বিকল্প বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকেছেন। তবুও অনিশ্চিত সময়ে সোনা এখনও নিরাপদ সম্পদ হিসেবেই বিবেচিত। ফলে এই দামের ওঠানামা নিয়ে নজর থাকছে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারী— উভয় মহলেই।







