ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিলই। সেই পরিস্থিতিতে অবশেষে আবেদন প্রক্রিয়া স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, যাঁদের নাম বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে, তাঁরা এখন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন।
এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ। আদালতের নির্দেশ মেনে কলকাতা হাই কোর্ট-এর প্রধান বিচারপতি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করেছেন, যাঁরা এই সংক্রান্ত আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করছেন। তবে সেই প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়লেও নতুন করে আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদন করা যাবে দু’ভাবে—অনলাইন ও অফলাইন।
অনলাইনে আবেদন করতে হলে ভোটারদের কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে ‘Submit Appeals for Individuals’ বিভাগে প্রবেশ করতে হবে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে—শুধুমাত্র যাঁরা আগে থেকেই বিবেচনাধীন তালিকায় ছিলেন, তাঁরাই এই আপিল করতে পারবেন। নতুন করে নাম তোলার জন্য বাইরের কেউ এই ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন না। একই সঙ্গে, প্রয়োজনে কারও নাম বাদ দেওয়ার দাবিও এই প্রক্রিয়ায় জানানো যাবে।
অন্যদিকে, অফলাইনে আবেদন জানাতে হলে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরে যোগাযোগ করতে হবে। সাদা কাগজে নিজের বক্তব্য লিখে জমা দিতে হবে। সেখানে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে নিজের এপিক নম্বর। যদি অন্য কারও নাম নিয়ে আপত্তি তোলা হয়, তা হলে সেই ব্যক্তির এপিক নম্বরও লিখতে হবে। প্রশাসনিক আধিকারিকরা সেই আবেদন অনলাইনে আপলোড করবেন, পাশাপাশি মূল নথিও সংরক্ষণ করবেন।
কমিশন স্পষ্ট করেছে, সমস্ত আবেদনই শেষ পর্যন্ত খতিয়ে দেখবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক। ১৯৫০ সালের প্রযোজ্য আইনি কাঠামো এবং কমিশনের গাইডলাইন মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি নাম বিবেচনাধীন অবস্থায় ছিল। ধাপে ধাপে সেই তালিকার নিষ্পত্তি চলছে। ইতিমধ্যেই একাধিক অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হয়েছে এবং প্রায় ৫৪ লক্ষ নামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম বাদও গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, নাম বাদ পড়া ভোটারদের জন্য ট্রাইবুনালই এখন প্রধান ভরসা—এবং সেই পথ কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, সেটাই স্পষ্ট করে দিল নির্বাচন কমিশন।






