প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেই হঠাৎ অন্য ছন্দ। একদিন আগেই সভা-সমাবেশ সেরে কলকাতায় রাত কাটিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সন্ধ্যায় গিয়েছিলেন বেলুড় মঠে। আর শুক্রবার ভোরেই দেখা গেল একেবারে অন্য মেজাজে—প্রিন্সেপ ঘাটে গঙ্গার বুকে নৌকাবিহারে বেরিয়ে পড়লেন তিনি।

তখনও ঘুম থেকে ওঠেনি শহর। ঠিক সেই সময়ই অপ্রত্যাশিত দৃশ্যের সাক্ষী হন স্থানীয়রা। বিহারের বাসিন্দা মহম্মদ তৌফিক, যাঁর ছোট দোকান প্রিন্সেপ ঘাটেই, জানান, “সবে ঘুম থেকে উঠেছি, দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ দেখি প্রধানমন্ত্রী হাঁটছেন! প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। মনে হচ্ছিল স্বপ্ন দেখছি।” তাঁর কথায়, কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিড় জমতে শুরু করে।
ঘাটের আর এক প্রত্যক্ষদর্শী শেখ মহম্মদ আলি, পেশায় মাঝি। তাঁর নৌকাতেই প্রধানমন্ত্রী ওঠেন বলে জানা যায়। যদিও বৈঠা ধরেছিলেন অন্য এক মাঝি, গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। আলির কথায়, আগের দিন বিকেলেই এক ব্যক্তি এসে একসঙ্গে সাতটি নৌকা বুক করে গিয়েছিলেন। “সকাল সাতটার জন্য নৌকা রাখতে বলা হয়েছিল, কিন্তু কার জন্য—তা বলা হয়নি,” জানান তিনি।

নির্ধারিত সময়েই প্রস্তুত ছিলেন মাঝিরা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে নৌকায় উঠবেন, তা কেউ ভাবেননি। মুহূর্তেই বদলে যায় ঘাটের পরিবেশ।
এ দিন সকালে নিজের অভিজ্ঞতার কথা সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাগ করে নেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। তিনি লেখেন, “প্রত্যেক বাঙালির মনে মা গঙ্গার একটা বিশেষ জায়গা রয়েছে। বঙ্গের আত্মার মধ্য দিয়েই প্রবাহিত হন মা গঙ্গা। এই পবিত্র জল আমাদের সভ্যতার চিরন্তন ঐতিহ্য বহন করে। আজ সকালে কলকাতার হুগলি নদীর ধারে মা গঙ্গার প্রতি শ্রদ্ধা জানালাম। মাঝিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও পেলাম।”
ভোটের আবহের মধ্যেই এই গঙ্গাবিহার নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে—এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে সাধারণ মানুষের কাছে, এই সকালটা রয়ে গেল একেবারেই আলাদা অভিজ্ঞতা হয়ে।








