কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা, উত্তরবঙ্গেও লাল সতর্কবার্তা

On: Thursday, August 6, 2026 11:26 PM
---Advertisement---

বুধবারের প্রবল বর্ষণের পরও স্বস্তির কোনও ইঙ্গিত নেই। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন উত্তর ও দক্ষিণ— দুই বঙ্গেই বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়ার সতর্কতাও রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি অক্ষরেখা বর্তমানে রাজস্থান থেকে শুরু করে হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে মিজোরাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব বিহারের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এই দুই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করছে। সেই কারণেই বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বুধবার বিকেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতায় ৬২ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। দমদমে ৪৫ মিলিমিটার এবং সল্টলেকে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় জল জমে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।

উত্তরবঙ্গেও বুধবার ভারী বৃষ্টির দাপট ছিল। কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের একাধিক এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের কিছু জায়গায় ২০ সেন্টিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গেও বৃহস্পতিবার বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়ায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এছাড়া কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের ১৫টি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

শুক্রবার ও শনিবারও বৃষ্টির এই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। বিশেষ করে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তর নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বজ্রবিদ্যুতের সময় খোলা জায়গায় না থাকা, অপ্রয়োজনীয়ভাবে জল জমা এলাকায় না যাওয়া এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ধসের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির জেরে নিচু এলাকায় জল জমা এবং যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now