রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বিমা সংস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (LIC)-এর বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার ৩১,৫০০ কোটি টাকার LIC শেয়ার বিক্রি করেছে। এরপরই ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুত এবং গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা SEBI।
জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে কেন্দ্র সরকারের হাতে থাকা LIC-এর ৬.৫ শতাংশ শেয়ার ‘অফার ফর সেল’ (OFS) পদ্ধতিতে বাজারে ছাড়া হয়। এর মাধ্যমে খুচরো বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার কেনার সুযোগ পান। ওই সময় শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ৩৮২ টাকা।
শেয়ার বিক্রির কয়েক দিনের মধ্যেই ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, লেনদেন শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বিনিয়োগ ব্যাঙ্কারদের একজনকে ডেকে পাঠিয়ে শেয়ার বিক্রির নথি প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রথমে সরকারের হাতে থাকা ২.৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। পরে সেই পরিমাণ বাড়িয়ে ৬.৫ শতাংশ করা হয়।
ব্লুমবার্গের দাবি, শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত আগে থেকে প্রকাশ করা হলে বাজারে চাহিদা আরও বাড়তে পারত এবং শেয়ারের দামও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারত। এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত চারটি বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক পরামর্শদাতা ফি নেয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে SEBI এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। তাদের বক্তব্য, শুরুতে ২.৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা থাকলেও OFS-এ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি চাহিদা দেখা যায়। সেই কারণেই অতিরিক্ত ৪ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়া হয়।
এদিকে শেয়ারের দামের দিক থেকেও সাম্প্রতিক সময়টা খুব একটা ইতিবাচক নয়। বৃহস্পতিবার, ৬ অগস্ট LIC-এর শেয়ারের দাম ছিল ৩৮৭ টাকা। ওই দিন শেয়ারটি প্রায় ১.৪০ শতাংশ নিচে নেমেছে। গত পাঁচ দিনে প্রায় ৭.৮৫ শতাংশ এবং এক মাসে প্রায় ৯.৬৯ শতাংশ দর কমেছে। গত এক বছরের হিসাবেও শেয়ারটির মূল্য প্রায় ১৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সরকারের বিলগ্নিকরণ প্রক্রিয়া আরও একধাপ এগোলেও, শেয়ারের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুচরো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
বিঃদ্রঃ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ বাজারগত ঝুঁকির অধীন। কোনও শেয়ারে অর্থ বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক লক্ষ্য ও ঝুঁকি বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।






