ঝড়-বৃষ্টিতে এক ধাক্কায় ৬ ডিগ্রি নামল তাপমাত্রা, ঘূর্ণাবর্ত থেকে কবে মিলবে রেহাই?

On: Saturday, March 21, 2026 11:49 AM
---Advertisement---

কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে রাতভর ঝড়বৃষ্টির পর শনিবার সকালেও আকাশ মেঘলা। শহরে রোদের দেখা মেলেনি, বরং ঝিরঝির বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে জারি হয়েছে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা।

শুক্রবার থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল। সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টি কম হলেও শহর ও শহরতলিতে দমকা হাওয়া বইছিল, আকাশে ছিল ঘন মেঘ এবং বজ্রধ্বনি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বৃষ্টি, মধ্যরাতের পর কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় মুষলধারে বর্ষণ হয়। তার সঙ্গে ছিল বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট।

শনিবার কলকাতায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে। হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই হাওয়ার গতি ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস। তবে রবিবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। সে দিন কেবল দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে সতর্কতা জারি থাকবে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে বিস্তৃত একটি অক্ষরেখা ঝাড়খণ্ড হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ০.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা এই অক্ষরেখার প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল জলীয় বাষ্প রাজ্যে ঢুকছে, যার জেরেই বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ঝড়বৃষ্টির প্রভাবে কলকাতার তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। শুক্রবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা শনিবার সকালে নেমে দাঁড়িয়েছে ১৯.২ ডিগ্রিতে— স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪ ডিগ্রি কম। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী দু’দিন তাপমাত্রা কম থাকার পর ধীরে ধীরে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে।

সমুদ্র পরিস্থিতিও আপাতত অশান্ত। ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে আগামী দু’দিন মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বিশেষ করে ওড়িশা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে উত্তাল পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।

ঝড়বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন জেলাতেও। মালদহে ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে ইংরেজবাজারের নেতাজি পুরবাজারে একটি আড়তের ছাদ ভেঙে পড়ে, এতে দু’জন আহত হন।

উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগ অব্যাহত। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত সেখানে ঝড়বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় ১৬.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য— বর্ধমানে ৮৭.৮ মিলিমিটার, সাগরদ্বীপে ৬৬.৪ মিলিমিটার, কল্যাণীতে ৪০.৬ মিলিমিটার। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেশি, কালিম্পঙে ৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে গোটা রাজ্যেই এখন বৃষ্টিমুখর আবহাওয়া। তবে সপ্তাহের শেষে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেই আশা আবহাওয়াবিদদের।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now