প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ থেকে ভাইরাল হওয়া মোনালিসাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। কিছুদিন আগেই কেরলের তিরুঅনন্তপুরমে বিয়ে করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বিয়ের বৈধতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি নাকি এখনও প্রাপ্তবয়স্কই নন।
মোনালিসার পরিবারের অভিযোগ ছিল শুরু থেকেই—তাঁদের মেয়ে নাবালিকা। যদিও সেই সময় মোনালিসা নিজেই প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়ে দাবি করেছিলেন, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক। এমনকি পরিবারের বিরুদ্ধে জোর করে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সমাজমাধ্যমে পরিচিত মহারাষ্ট্রের এক যুবককে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু বিয়ের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। পরিবার ফের অভিযোগ তোলে এবং বিষয়টি তদন্তে যায়। সূত্রের খবর, জাতীয় জনজাতি কমিশন গোটা ঘটনার খোঁজখবর নেয়। কমিশনের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মোনালিসার প্রকৃত বয়স ১৬ বছর।
তদন্তে জানা যায়, মধ্যপ্রদেশের মহেশ্বরের একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাওয়া জন্ম-নথি অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর জন্ম মোনালিসার। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের ১১ মার্চ বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর ২ মাসের কিছু বেশি। অথচ বিয়ের সময় যে নথি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেখানে জন্মতারিখ দেখানো হয়েছিল ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি।
কেরলে যেখানে বিয়েটি নথিভুক্ত হয়েছিল, সেখানে আধার কার্ডের তথ্য মেনেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু জন্ম-শংসাপত্রে গরমিলের অভিযোগ উঠতেই বিষয়টি জটিল হয়ে ওঠে। তদন্তকারী দল কেরল ও মধ্যপ্রদেশ—দুই জায়গা থেকেই তথ্য সংগ্রহ করে।
এই পরিস্থিতিতে মোনালিসার স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের খরগোন জেলার মহেশ্বর থানায় এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলায় মালা বিক্রি করতে গিয়ে আচমকাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েন মোনালিসা। তাঁর চোখের সৌন্দর্য নজর কেড়েছিল বহু মানুষের। সেই ভাইরাল হওয়ার পর বদলে যায় তাঁর জীবনযাত্রা। বিজ্ঞাপন, ছবি—একাধিক কাজের প্রস্তাব পান তিনি। বর্তমানে একটি মালয়ালম ছবিতে কাজ করছেন বলেও জানা গিয়েছে। বলিউডে কাজের কথাও শোনা যাচ্ছে।
তবে এই নতুন বিতর্ক তাঁর সেই উত্থানের পথেই বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। এখন নজর তদন্তের দিকে—আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার।






