দীর্ঘদিন ধরে চলা টানাপড়েনের অবসান ঘটল। পশ্চিমবঙ্গে অবশেষে চালু হতে চলেছে কেন্দ্রের অন্যতম বড়ো স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। সোমবারই এই প্রকল্প রূপায়ণের লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র বা ‘মউ’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, এবার ধাপে ধাপে রাজ্যজুড়ে এই স্বাস্থ্য প্রকল্পের কাজ শুরু করে দেওয়া হবে।
রাজ্যে এই কার্ড চালু হওয়ার খবর আসতেই সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— এই প্রকল্পের আসল সুবিধা কী? কারা এই কার্ড পাওয়ার যোগ্য আর কাদের নামই বা বাদ পড়তে চলেছে তালিকা থেকে?
কী এই আয়ুষ্মান কার্ড এবং এতে কী সুবিধা মেলে?
সহজ কথায়, আয়ুষ্মান কার্ড হল ভারত সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত – প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (AB PM-JAY)-র অধীনে দেওয়া একটি বিশেষ স্বাস্থ্য কার্ড। এই কার্ডের মূল লক্ষ্য দেশের দরিদ্র, প্রান্তিক পরিবার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সি প্রবীণ নাগরিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। কার্ডটি থাকলে তালিকাভুক্ত যে কোনো হাসপাতালে প্রতি বছর পরিবার পিছু সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যায়। সরকার প্রতিটি আর্থিক বছরের জন্য এই ৫ লক্ষ টাকার সীমা নির্ধারণ করে দেয়।
তবে মনে রাখতে হবে, এই প্রকল্পের সুবিধা কিন্তু কেবল এই যোজনার আওতাভুক্ত বা রেজিস্টার্ড হাসপাতালগুলিতেই মিলবে। এর মধ্যে দেশের বহু সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি হাসপাতালও রয়েছে। আপনার শহরের কোন হাসপাতালে এই সুবিধা রয়েছে, তা জানতে সরকারের অফিসিয়াল লিঙ্ক https://hem.nha.gov.in/search -এ গিয়ে সহজেই খোঁজ নিতে পারেন।
কারা পাবেন এই বিশেষ কার্ড?
নবান্নের সবুজ সংকেত মেলার পর এবার উপভোক্তাদের যোগ্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হবে। নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত মানুষ মূলত আর্থিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন, তাঁরাই এই সুযোগ পাবেন। তালিকা অনুযায়ী যাঁরা কার্ড করাতে পারবেন:
• অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিকরা।
• গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষ এবং দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করা শ্রমিকরা।
• তফসিলি জাতি (SC) বা তফসিলি উপজাতির (ST) অন্তর্ভুক্ত মানুষ।
• যে সমস্ত পরিবারে কোনো প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছেন।
• নিঃস্ব, গৃহহীন বা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ।
• যে সমস্ত প্রবীণ নাগরিকদের বয়স ৭০ বছরের বেশি।
কাদের নাম বাদ যাবে এই তালিকা থেকে?
সবাই কিন্তু এই সরকারি সুবিধা পাবেন না। সমাজের যে অংশ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য বীমার আওতায় রয়েছেন, তাঁদের এই প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে। যাঁরা এই কার্ড তৈরি করতে পারবেন না:
• যাঁরা নিজস্ব ব্যবসা করেন।
• যে সমস্ত ব্যক্তি সরকারি চাকরি করেন।
• সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত চাকুরিজীবী, যাঁদের প্রতি মাসে পিএফ (PF) কাটে।
• যাঁরা ইতিমধ্যেই ‘ইএসআইসি’ (ESIC)-র মতো চিকিৎসা সংক্রান্ত সুবিধা পেয়ে থাকেন।
• দেশের আয়কর দাতা বা যাঁরা নিয়মিত ট্যাক্স দেন।
আপাতত রাজ্যে ধাপে ধাপে এই প্রকল্পের পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। ফলে যোগ্য তালিকায় আপনার নাম রয়েছে কি না, তা এখন থেকেই দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।








