রাজ্যে ভিআইপি ও ভিভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় পুনর্বিবেচনার পথে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরেই রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। সূত্রের খবর, এই পর্যালোচনার জেরে একাধিক ব্যক্তির নিরাপত্তা কমানো বা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, বর্তমানে যে Z+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা তিনি পাচ্ছেন, তা আর বহাল রাখা হচ্ছে না। একজন সাংসদ হিসেবে যে নিরাপত্তা প্রোটোকল প্রাপ্য, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র সেই ব্যবস্থাই রাখা হবে তাঁর জন্য। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি, গাড়ি এবং সফরসূচিকে কেন্দ্র করে যে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন ছিল, তা প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও খবর।
অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে Z+ নিরাপত্তা বহাল রাখার দিকেই ঝুঁকছে প্রশাসন। তবে সামগ্রিকভাবে রাজ্যের সমস্ত VIP ও VVIP নিরাপত্তা নতুন করে খতিয়ে দেখছে ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটি।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ পুলিশকর্তাদের বৈঠকেই এই নির্দেশ স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী নাকি জানিয়ে দেন, “প্রোটোকলের বাইরে কাউকে কোনও নিরাপত্তা নয়।” এরপরই রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের তরফে শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পর্যালোচনা।
ইতিমধ্যেই কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সওকত মোল্লা, জাহাঙ্গির-সহ আরও কয়েকজনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে যাঁরা অতিরিক্ত নিরাপত্তা পাচ্ছিলেন, তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রেই সেই মাত্রার সুরক্ষার প্রয়োজন ছিল না। পুলিশ প্রশাসনের একাংশের মতে, এই বিপুল বাহিনী মোতায়েনের ফলে সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে চাপ তৈরি হচ্ছিল। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও বাস্তবসম্মত এবং প্রোটোকলভিত্তিক করার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই পুরো নিরাপত্তা পুনর্বিন্যাসের চূড়ান্ত রিপোর্ট আগামীকাল নবান্নে জমা পড়ার কথা। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসন।








