পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলের পর প্রশাসনের অন্দরেও যে বড়সড় পুনর্বিন্যাস শুরু হয়েছে, রবিবারের নবান্নের বিজ্ঞপ্তি সেই ইঙ্গিতই আরও স্পষ্ট করে দিল। একসঙ্গে ১০ জন আমলার বদলির নির্দেশ জারি করেছে রাজ্যের কর্মিবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার দফতর। তাঁদের মধ্যে ন’জনকে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হচ্ছে। আর সেই তালিকাতেই সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে ভবানীপুরের প্রাক্তন রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায়ের নাম।
বিধানসভা ভোটের সময় ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের অন্যতম কেন্দ্রে ছিলেন সুরজিৎ। তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছিল, তিনি নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক আধিকারিক হিসেবে কাজ করেছেন। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার অনুমতি না-মেলার ঘটনাতেও তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। এমনকি নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁকে বদলির দাবিও জানানো হয়েছিল।
সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। অভিযোগের পর কমিশন নবান্নের কাছে বিকল্প আধিকারিকদের একটি প্যানেলও চেয়েছিল। রাজ্য সরকার তিন জনের নাম পাঠালেও শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার বদল করা হয়নি। ভোট মিটে সরকার পরিবর্তনের পর সেই সুরজিৎ রায়কেই এবার মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে নিয়ে আসা হল।
নবান্ন সূত্রে খবর, সিএমও-তে সিনিয়র উপসচিব হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে সুরজিৎকে। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েক জন প্রশাসনিক আধিকারিককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প এবং বস্ত্র দফতরের যুগ্মসচিব পি প্রমথ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক নবনীত মিত্তল। পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবারের এসডিও, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের উপসচিব এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত একাধিক আধিকারিককেও সিএমও-তে আনা হচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নবান্নে বড় রদবদলের প্রস্তুতি চলছিল। শনিবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে শান্তনু বালা এবং উপদেষ্টা হিসেবে সুব্রত গুপ্তকে নিয়োগ করেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৬২ জন আমলাকে কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁদের অনেকেই পূর্বতন সরকারের মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সচিব বা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্বে ছিলেন।
রবিবারের নির্দেশিকাকে সেই প্রক্রিয়ারই পরবর্তী ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের অন্দরে এখন জোর জল্পনা, আগামী কয়েক দিনে আরও বড়সড় রদবদল হতে পারে।
অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত পবিত্র চক্রবর্তীকে সরিয়ে উত্তরবঙ্গে পাঠানো হয়েছে। এত দিন তিনি স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরে সহকারী সচিব ছিলেন। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁকে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর কর্মস্থল হবে কোচবিহার।








