SIR-এ বাদ পড়া নামের ৬৩% হিন্দু! তৃণমূলের দাবি ঘিরে তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি

On: Thursday, April 9, 2026 10:50 PM
---Advertisement---

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। প্রায় ৯১ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার সামনে এসেছে ধর্মভিত্তিক পরিসংখ্যান—যদিও এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। সেই শূন্যস্থানেই নিজেদের হিসাব তুলে ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস।

দলের দাবি, বাদ পড়া মোট নামের প্রায় ৬৩ শতাংশই হিন্দু সম্প্রদায়ের। মুসলিম নাম রয়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ অনুপাত দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২:১। এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক অস্বস্তি বাড়িয়েছে বিজেপির জন্য—এমনটাই দাবি শাসকদলের।

তবে এই তথ্যের উৎস নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে সরাসরি বলা না হলেও, তারা জানতে চাইছে—এই পরিসংখ্যান তৃণমূলের হাতে এল কীভাবে? যদিও সংখ্যার নির্ভুলতা নিয়ে সরাসরি আপত্তি তোলা হয়নি।

তৃণমূলের বিশ্লেষণ বলছে, এসআইআরের প্রথম ধাপে বাদ পড়া প্রায় ৫৮ লক্ষ নামের মধ্যে ৪৪ লক্ষই ছিল হিন্দু। মুসলিম নাম ছিল প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষ। দ্বিতীয় ধাপে বাদ যায় প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ নাম, যার মধ্যে ৫ লক্ষ ২৮ হাজার হিন্দু এবং প্রায় ১৩ হাজার মুসলিম। তবে চিত্র বদলায় তৃতীয় ধাপে। শেষ পর্বে বাদ পড়া প্রায় ২৭ লক্ষ নামের মধ্যে মুসলিম নামই বেশি—প্রায় সাড়ে ১৭ লক্ষের বেশি, যেখানে হিন্দু নাম প্রায় ৮ লক্ষ ৩৫ হাজার।

শতাংশের হিসাবে প্রথম ধাপে হিন্দু নাম ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯৭ শতাংশে। কিন্তু তৃতীয় ধাপে মুসলিম নামের হার পৌঁছে যায় প্রায় ৬৫ শতাংশে, যেখানে হিন্দু নাম প্রায় ৩১ শতাংশ।

এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গা খুঁজতে গিয়ে বিজেপি সকলকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। সেই হয়রানি থেকে বাদ যাননি গরিব হিন্দুরাও। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, ৫৭ লক্ষেরও বেশি হিন্দু নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে।”

তবে সূত্র নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে চাননি তিনি। তাঁর কথায়, “একাধিক সংস্থা এসআইআর তালিকাকে ‘ডিজিটাইজ়’ করেছে। প্রথম দু’দফায় যে নাম বাদ গিয়েছিল, তার বুথভিত্তিক হিসাব আমাদের সাংগঠনিক স্তরেও রয়েছে। এই পরিসংখ্যান পাওয়ার জন্য মহাকাশ গবেষণার দরকার হয় না।”

অন্যদিকে, বিষয়টিকে শুধুমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে নারাজ একাংশের বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, প্রথম ধাপে বাদ পড়া নামগুলির বড় অংশই স্থানান্তর বা একাধিক জায়গায় নাম থাকার কারণে বাদ গেছে। আর শেষ ধাপে বাদ পড়া নামের মধ্যে সক্রিয় ভোটারদের সংখ্যাই বেশি, যেখানে সংখ্যালঘুদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ইস্যু বিশেষ করে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, এই এলাকাগুলিতে গত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপির শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছিল। ফলে এই পরিসংখ্যান ভবিষ্যতের ভোট-সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখন স্পষ্টভাবেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে—আর তার রেশ যে আরও কিছুদিন চলবে, তা বলাই যায়।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now