ভোটের আগেই লক্ষ্য বদলে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২১ সালের মতো এ বার আর ‘২০০ পার’-এর উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্লোগান নয়, বরং বাংলায় ১৭০ আসন জয়ের লক্ষ্যই সামনে রাখছেন তিনি। বৃহস্পতিবার হাজরার রোড শো-এর আগে শাহ স্পষ্ট বলেন, “এবার বাংলায় ১৭০ আসন হবে। তবেই পরিবর্তন হবে।”
এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কিছুদিন আগেও বিজেপি শিবিরে দুই-তৃতীয়াংশ আসন জয়ের কথা শোনা যাচ্ছিল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও ১৭৭ আসনের দাবি করেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে শাহর এই নতুন লক্ষ্য নির্ধারণকে অনেকে কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন।
দলের অন্দরে অবশ্য এই পরিবর্তন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একাংশের মতে, ২০২১ সালের অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়েছে বিজেপি। সে সময় ২০০ পারের স্লোগান দিলেও শেষ পর্যন্ত ৭৭ আসনে থামতে হয়েছিল দলকে। ফলে অতি উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ করে পরে অস্বস্তিতে পড়ার ঝুঁকি এ বার এড়াতে চাইছে নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ১৭০ আসনের লক্ষ্য তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত বার্তা দেয়। এতে কর্মীদের মধ্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের বদলে লড়াইয়ের মনোভাব জিইয়ে রাখা সম্ভব হতে পারে। কারণ, অতীতে একাধিক নির্বাচনে দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস অনেক সময় মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
একই সঙ্গে বঙ্গ বিজেপির দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। কঠিন লড়াইয়ের বার্তা দিলে অভ্যন্তরীণ বিভাজন কিছুটা হলেও কমিয়ে একজোট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে—এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
অন্যদিকে, এই ইস্যুতে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “আগের বার বলেছিলেন, আব কি বার ২০০ পার। ৭৭-এ এসে থেমে গিয়েছিল। আজকে বলছেন ১৭০ পেলেই পরিবর্তন। আপনি অনুপাতে ফেলে দিন। নিশ্চিত পরাজয় বুঝে গিয়েছেন। তাই মুখ রক্ষায় প্ররোচনামূলক কথা বলে বেড়াচ্ছেন।”
সব মিলিয়ে, লক্ষ্য কমানো কি বাস্তববাদী কৌশল, না কি আত্মবিশ্বাসে ঘাটতির ইঙ্গিত—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বঙ্গ রাজনীতিতে। ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।






