এবার ভোট না দিতে পারলেই চিরতরে ভোটাধিকার চলে যাবে না, SIR মামলায় স্বস্তির বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

On: Wednesday, April 1, 2026 7:36 PM
---Advertisement---

বুধবার এসআইআর মামলার শুনানিতে ভোটাধিকার সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল, ভোট দেওয়া শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার—যা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “বৈধ ভোটার ট্রাইব্যুনাল থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার পরও যদি ভোট দিতে না পারেন, তাহলে সেই অধিকার রক্ষা হচ্ছে কীভাবে? আবার নিশ্চিত করতে হবে, কোনও অবৈধ ব্যক্তি যেন ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না পারেন।”

আদালত নির্বাচন কমিশনকে আরও স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। বিচারপতি বাগচির কথায়, কোনও আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সেই সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। তিনি বলেন, “যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক, তার পেছনে যুক্তি থাকতে হবে এবং তা রেকর্ডে রাখতে হবে।”

এই প্রসঙ্গে কমিশনের আইনজীবী জানান, সমস্ত নথি আপিলেট কর্তৃপক্ষের সামনে পেশ করা হবে। তবে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, কেবল নথি পেশ করলেই হবে না—সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও হতে হবে স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য।

ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন বিচারপতি বাগচি। তিনি বলেন, সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন না থাকলেও, তাঁদের এমন কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যা তাঁদের পূর্ব অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়ে না। ফলে প্রক্রিয়াটি আরও সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা প্রয়োজন।

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ যাওয়ার প্রশ্নে আদালত জানায়, এটি কোনও স্থায়ী সিদ্ধান্ত নয়। কোনও ব্যক্তি একবার ভোট দিতে না পারলে, তার মানে এই নয় যে তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে হারিয়ে গেল। একইভাবে, তালিকায় নাম থাকলেও তা ভবিষ্যতে সংশোধিত হতে পারে।

ফর্ম ৬ জমা দিয়ে নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে আদালত। কমিশনের তরফে জানানো হয়, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে বিচারপতি বাগচি বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করা ব্যক্তিরাই সেই সুযোগ পাবেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, ভোটার তালিকার বাইরে থাকা কোনও বৈধ নাগরিক যদি ভোট দিতে না পারেন, তাহলে তা সরাসরি তাঁর অধিকারের ক্ষতি। এই অবস্থাকে মেনে নেওয়া যায় না বলেই মত সুপ্রিম কোর্টের।

সব মিলিয়ে, এই শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বার্তা স্পষ্ট—ভোটাধিকার রক্ষায় কোনও ফাঁক রাখা যাবে না। বৈধ নাগরিক যেন বঞ্চিত না হন এবং প্রক্রিয়ার অপব্যবহার ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now