শুক্রবার গভীর রাতে প্রকাশ্যে এল পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা। নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পরে তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকা ঘিরেই এখন তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা।
প্রথম দফার তালিকা প্রকাশ হয়েছিল সোমবার। তার পর শুক্রবার দ্বিতীয় দফার তালিকা সামনে এলেও, কতজন নতুন করে যুক্ত হলেন বা কতজনের নাম বাদ পড়ল— সেই পরিসংখ্যান স্পষ্ট নয়। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যাঁদের নাম বাদ গেছে, তাঁরা কীভাবে নিজেদের দাবি জানাবেন? এই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও নির্দেশিকা দেয়নি নির্বাচন কমিশন। যদিও আগেই জানানো হয়েছিল, বাদ পড়া নামের সমস্যার সমাধানে ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, কিন্তু সেই ট্রাইব্যুনাল কোথায় বসবে, কীভাবে কাজ করবে— তা এখনও অজানা।
কমিশন সূত্রে খবর, দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ লক্ষ ভোটারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখনও প্রায় ২৩ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি বাকি। শুধু শুক্রবারই প্রায় ১২ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ দুই দফা মিলিয়ে প্রায় ২২ লক্ষ নাম প্রকাশ্যে এসেছে।
তবে সূত্রের দাবি, বুথভিত্তিক ভাবে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। যদিও এই তথ্যের কোনও সরকারি ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি।
নিজের নাম তালিকায় রয়েছে কি না, তা দেখতে ভোটাররা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে গিয়ে জেলা, বুথ এবং এপিক নম্বর দিয়ে যাচাই করতে পারবেন। একইসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও এই তালিকা দেখা যাচ্ছে।
তালিকা প্রকাশ হলেও স্বচ্ছতা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। ফলে ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ কমার বদলে আরও জোরালো হচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।






