বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আর মাত্র এক মাস পর মাঠে নামবে বিশ্বের সেরা ফুটবল দলগুলি। অথচ এখনও পর্যন্ত ভারতে কোথায় দেখা যাবে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ, তা স্পষ্ট নয়। কোনও টিভি চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এখনও সম্প্রচারের দায়িত্ব নেয়নি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বড় নির্দেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট।
মঙ্গলবার আদালত কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রসার ভারতীকে নোটিস পাঠিয়ে জানায়, দূরদর্শন ও ডিডি স্পোর্টসে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পরই আশার আলো দেখছেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।
ভারতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। জাতীয় দল আন্তর্জাতিক মঞ্চে পিছিয়ে থাকলেও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন কিংবা ইংল্যান্ডের ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সেই বিশ্বকাপই এবার সম্প্রচার সঙ্কটে।
সূত্রের খবর, ২০২৬ এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির জন্য প্রথমে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দাম চেয়েছিল ফিফা। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৯৩০ কোটি টাকা। কিন্তু সেই দামে কোনও সম্প্রচারকারী সংস্থা আগ্রহ দেখায়নি। পরে দাম কমিয়ে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার করা হলেও পরিস্থিতি বদলায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনাগ্রহের অন্যতম কারণ ম্যাচের সময়সূচি। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোয় আয়োজিত এই বিশ্বকাপের বেশিরভাগ ম্যাচই ভারতীয় সময় গভীর রাতে অনুষ্ঠিত হবে। কোনও ম্যাচ রাত সাড়ে বারোটায়, কোনওটি দেড়টায়, আবার কিছু ম্যাচ ভোররাত বা সকালবেলায়। ফলে দর্শকসংখ্যা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি।
এই পরিস্থিতিতেই কয়েকজন ফুটবলপ্রেমী দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন জানান। তাঁদের দাবি, ফিফা বিশ্বকাপকে জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিযোগিতা হিসেবে ধরা হয়। তাই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে এই টুর্নামেন্ট চলে যাওয়া উচিত নয়। আবেদনকারীদের বক্তব্য, প্রসার ভারতীর কাছে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে এবং জনস্বার্থে বিশ্বকাপ সম্প্রচার করা প্রয়োজন।
সেই আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত নোটিস জারি করেছে। তবে এখনও প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে, টিভির বাইরে মোবাইল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কীভাবে বিশ্বকাপ দেখবেন দর্শকরা? কারণ ডিজিটাল সম্প্রচার নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ঘোষণা হয়নি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই অনিশ্চয়তা কাটে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা।








