বিশ্বকাপের উদ্বোধনী উন্মাদনার মধ্যেই সামনে এল অন্য এক ছবি। মাঠের ভেতরে ফুটবলের উৎসব চললেও মাঠের বাইরে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অস্বস্তিতে আয়োজক দেশ মেক্সিকো। একই সঙ্গে টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে, কারণ দ্বিতীয় ম্যাচেই গ্যালারির বহু আসন খালি দেখা গিয়েছে।
মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ চলাকালীন রাজধানীর বিখ্যাত এস্তাদিয়ো আজ়টেকার বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, সমাজকর্মী-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে শামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সামাজিক পরিষেবা— একাধিক ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি বিক্ষোভকারীদের।
স্থানীয় সূত্রের খবর, মেক্সিকো দলের প্রথম গোলের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একাংশ বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। প্রতিবাদীদের একটি অংশ রাজধানীর জ়োকালো স্কোয়ারে তৈরি ফ্যান জ়োনে ঢোকার চেষ্টা করে। সেখানে খেলা সম্প্রচারের ব্যবস্থাও ভণ্ডুল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিশ্বকাপ শুরুর মুখে এই অশান্তি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট Claudia Sheinbaum-এর সরকারের উপরও চাপ বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ম্যাচ শুরুর আগে প্রায় ২০০ জন মুখোশধারী বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। পরে আন্দোলনকারীদের সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। এক মহিলাকে আটক করা হলেও পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রতিবাদের নেপথ্যে রয়েছে কয়েক মাস ধরে চলা শিক্ষক সংগঠনগুলির সরকারবিরোধী আন্দোলন। তাঁদের অভিযোগ, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কারণে শিক্ষাবর্ষে কাটছাঁট করা হয়েছে। সেই ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও কয়েকটি সামাজিক সংগঠনও। ফলে ফুটবলের মহাযজ্ঞ শুরু হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ চাপা থাকেনি।
অন্য দিকে, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেকিয়ার ম্যাচে দর্শক উপস্থিতি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্টেডিয়ামের একাধিক অংশে খালি আসন চোখে পড়ে। বিশ্বকাপের আগে থেকেই টিকিটের দাম নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। অনেকের মতে, সেই কারণেই প্রত্যাশিত সংখ্যক দর্শক মাঠে আসেননি।
যদিও ফিফা জানিয়েছে, ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন ৪৪ হাজার ৯৮৫ জন দর্শক। সংশ্লিষ্ট স্টেডিয়ামের মোট আসনসংখ্যা ৪৫ হাজার ৬৬৪। কিন্তু টেলিভিশনের ছবি এবং মাঠের দৃশ্য দেখে অনেকেরই প্রশ্ন, ফিফার দেওয়া পরিসংখ্যান বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে কতটা মেলে।
বিশ্বকাপের সূচনা সাধারণত উৎসবের আবহেই হয়। কিন্তু এবার ফুটবলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সামাজিক অসন্তোষ, রাজনৈতিক চাপ এবং টিকিটের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া দাম। ফলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আয়োজকদেরও এখন লড়তে হচ্ছে মাঠের বাইরের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে।








