আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরই শুরু হতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শুধু অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নয়, একাধিক নতুন নিয়মের কারণেও নজরে রয়েছে। খেলাকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে এবার বেশ কিছু কড়া বিধি কার্যকর করতে চলেছে ফিফা।
এই প্রথমবার ৪৮টি দলকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এর আগে কাতারে আয়োজিত ২০২২ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ৩২টি দেশ। দল বাড়ার পাশাপাশি ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রেও একাধিক পরিবর্তন আনছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা।
সবচেয়ে আলোচিত নিয়মগুলির মধ্যে রয়েছে খেলোয়াড়দের আচরণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ। মাঠে কোনও ফুটবলার যদি হাত দিয়ে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের উদ্দেশে কিছু বলেন এবং তা রেফারির নজরে আসে, তাহলে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হতে পারে। খেলোয়াড়দের মধ্যে গোপন বা বিতর্কিত কথোপকথন রুখতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, ম্যাচ অফিসিয়াল বা রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠের বাইরে গিয়ে প্রতিবাদ করলেও শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ফুটবলারকে লাল কার্ড দেখানোর ক্ষমতা থাকবে রেফারির হাতে।
দলের কোচিং স্টাফ বা কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিয়েছে ফিফা। কোনও কর্মকর্তা যদি এমন আচরণ করেন, যার ফলে কোনও খেলোয়াড় রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠ ছাড়ার মতো পরিস্থিতিতে পৌঁছে যান, তাহলে সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও লাল কার্ডের ব্যবস্থা থাকবে।
সময় নষ্ট করার প্রবণতা কমাতেও নতুন নিয়ম আনা হয়েছে। গোলকিক নেওয়ার ক্ষেত্রে রেফারি যদি মনে করেন অযথা সময় নষ্ট করা হচ্ছে, তাহলে দৃশ্যমান পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন শুরু হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বল খেলার মধ্যে না এলে প্রতিপক্ষ দলকে কর্নার কিক দেওয়া হবে।
থ্রো-ইনের ক্ষেত্রেও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলা শুরু না হলে তারও প্রভাব পড়বে ম্যাচের গতিপ্রকৃতিতে।
ফুটবলে বদলি প্রক্রিয়াতেও আসছে পরিবর্তন। কোনও ফুটবলারকে পরিবর্তন করা হলে তাঁকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে। যদি তিনি তা না করেন, তাহলে বদলি খেলোয়াড় সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নামতে পারবেন না। সেই ক্ষেত্রে অতিরিক্ত এক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে নতুন ফুটবলারকে।
চোটের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হবে। কোনও খেলোয়াড়ের চোটের কারণে খেলা বন্ধ রাখতে হলে এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হলে, খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর তাঁকে অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। এর ফলে চোটের অজুহাতে সময় নষ্ট করার প্রবণতা কমবে বলে মনে করছে ফিফা।
নতুন নিয়মগুলির লক্ষ্য একটাই—খেলার গতি বজায় রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক বা সময়ক্ষেপণ কমানো। তবে এই বিধিগুলি মাঠে কতটা কার্যকর হয় এবং ফুটবলার, কোচ ও সমর্থকেরা তা কী ভাবে গ্রহণ করেন, তা নজরে থাকবে গোটা ফুটবল বিশ্বের।








