সরকারি প্রকল্পের সুবিধা আরও দ্রুত এবং সহজে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে জনকল্যাণ শিবির। আগামী ১৫ জুন থেকে টানা তিন দিন গ্রাম পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং পুরনিগম এলাকায় এই বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন চলা এই উদ্যোগে একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পের আবেদন, নথি যাচাই এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজ একসঙ্গেই করা যাবে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, জনকল্যাণ শিবিরে ৫০টিরও বেশি সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা পাওয়া যাবে। খাদ্য নিরাপত্তা থেকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা— বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রকল্প এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা, প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা, অটল পেনশন যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পের মতো কর্মসূচিতে আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
শিক্ষাক্ষেত্রেও একাধিক প্রকল্পের সুবিধা মিলবে। কন্যাশ্রী, বেটি বচাও বেটি পড়াও, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা, শিক্ষাশ্রী, মেধাশ্রী এবং স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের আবেদন সংক্রান্ত পরিষেবাও দেওয়া হবে শিবিরে। পাশাপাশি শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্প, তপশিলি বন্ধু, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা, মুদ্রা ঋণ এবং মৎস্য ও গ্রামীণ উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পের পরিষেবাও থাকবে।
প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আধার নথিভুক্তি ও আধার সিডিংয়ের জন্য পৃথক কাউন্টার থাকবে। প্রতিটি শিবিরে ব্যাঙ্ক কাউন্টার, স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্র, অভিযোগ গ্রহণ ডেস্ক এবং সহায়তা কেন্দ্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতায় আবেদন সংক্রান্ত সহায়তাও পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ফর্ম পূরণ, আবেদনপত্র জমা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথির ফটোকপির মতো পরিষেবাগুলি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও আবেদনকারীকে অনুমোদিত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত নথি জমা দিতে বলা যাবে না এবং যোগ্য আবেদনকারীদের ফিরিয়েও দেওয়া যাবে না।
অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিবিরে জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ অনলাইনে নথিভুক্ত করা হবে এবং আবেদনকারীকে একটি ইউনিক রেফারেন্স নম্বর দেওয়া হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে অভিযোগের অগ্রগতি জানা যায়।
শিবির পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক। প্রতিটি জেলায় আলাদা কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। পাশাপাশি রাজ্যস্তরেও কন্ট্রোল রুম চালু করা হচ্ছে। সাহায্যের জন্য টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর 1800-345-0117 চালু থাকবে।
গ্রীষ্ম ও বর্ষার পরিস্থিতি মাথায় রেখে পানীয় জল, ওআরএস, অস্থায়ী ছাউনি, শৌচাগার, স্বাস্থ্যকর্মী, অ্যাম্বুল্যান্স এবং বিদ্যুতের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবীণ নাগরিক, গর্ভবতী মহিলা, মহিলাদের জন্য এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য আলাদা সারির ব্যবস্থাও থাকবে।ও
প্রশাসনের আশা, এই জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে বহু মানুষ সরাসরি সরকারি প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন এবং বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের জটিলতাও অনেকটাই কমবে।






