‘তৃণমূলী সংস্কৃতি চলবে না’, বিধায়কদেরও রেয়াত নয়! দলবিরোধী কাজের জন্য সাসপেন্ড ৩ বিজেপি নেতা

On: Sunday, June 7, 2026 8:58 PM
---Advertisement---

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে রবিবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিজেপি নেতৃত্বের বার্তা ছিল স্পষ্ট— দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কোনও ধরনের বেআইনি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। আর সেই বার্তা দিতে গিয়ে বিধায়কদেরও ছাড় দিলেন না রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।

দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, পার্টি অফিস দখল, জোর করে গেরুয়া রং করা, তোলাবাজি, জমি বা বাড়ি দখলের মতো অভিযোগের দিকে দলের নজর রয়েছে। তিনি সতর্ক করে দেন, কেউ যদি এসব কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি কোনও বিধায়ক জড়িত থাকলেও তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বৈঠকে তিনি বলেন, “অনেকে আছেন যারা এইসব কাজে মদত দিচ্ছেন। বিধায়করাও যদি এই ধরনের কাজে যুক্ত থাকে তাহলে তাদের কেও রেওয়াত করা হবে না। ৫-৭ জন বিধায়ককে বের করে দিলেও দলের কোনও সমস্যা হবে না। পার্টিতে যা ইচ্ছা করা যাবে না, তৃণমূলী সংস্কৃতি চলবে না।”

শুধু তাই নয়, বিরোধী দলের জেতা বিধায়কদের বাড়ির সামনে গিয়ে কিছু স্বঘোষিত নেতার শক্তিপ্রদর্শন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাজ্য সভাপতি। শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীদের অযথা বিরক্ত করা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল (Sunil Bansal)। শমীকের বক্তব্যের পর তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন একই বিষয় নিয়ে বারবার রাজ্য সভাপতিকে সতর্ক করতে হচ্ছে। তাঁর মন্তব্য, “এগুলো কেন বারবার রাজ্য সভাপতি কে আপনাদের বলতে হচ্ছে? আপনারা উপলব্ধি করুন।”

বৈঠকের পরই সাংগঠনিক স্তরে কড়া পদক্ষেপের খবর সামনে আসে। বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সুপারিশে এবং রাজ্য সভাপতির নির্দেশে দমদম উত্তর সাংগঠনিক এলাকার তিন নেতাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁরা হলেন নিউ বারাকপুর ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি Titu Sarkar, সহ-সভাপতি Tirtha Mitra এবং উত্তর শহরতলি সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক Nitya Mitra।

দলীয় চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনের পর ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া এবং দলীয় কর্মীদের মারধরের মতো একাধিক দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে তাঁদের নাম উঠে এসেছে। সেই কারণেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে ওই এলাকায় সাংগঠনিক কর্তৃত্ব এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সেই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার নেয়। সম্প্রতি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং মারধরের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দলীয় নেতৃত্ব বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর সংগঠনের ভিতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দিতেই বিজেপি এই পদক্ষেপ করেছে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now