ভোটের দিন যাঁরা বুথে দায়িত্ব পালন করেন, তাঁরাই আবার ভোটার। কিন্তু তাঁদের ভোটদানের পদ্ধতি—পোস্টাল ব্যালট—নিয়ে উঠছে নতুন করে প্রশ্ন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ভোটকর্মীদের একাংশ অভিযোগ তুলছেন, এই ব্যবস্থায় গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা দুটোই পর্যাপ্তভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
এই প্রেক্ষিতে ভোটকর্মী এবং বিএলও ঐক্যমঞ্চ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে ই-মেল করে পুরো প্রক্রিয়াটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, নিয়ম থাকলেও বাস্তবে বহু জায়গায় সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না।
ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক, শিক্ষক নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, “প্রশিক্ষণের শেষ দিনেই আমাদের ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে হয়। নির্বাচনের দিন দায়িত্বে থাকার কারণে এই ব্যবস্থাই চালু। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয় না।”
তাঁর অভিযোগ, ভোটদানের সময় অনেক কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স যথাযথভাবে সিল করা থাকে না। “ব্যালট পেপারে টিক দেওয়ার পর সেটি যে বাক্সে ফেলা হচ্ছে, তার ঢাকনাই নেই—এমন ঘটনাও দেখা গিয়েছে। এই অবস্থায় ভোটের গোপনীয়তা কোথায়?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর সংযোজন, “ব্যালট পেপারের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে। এ ভাবে উন্মুক্ত ব্যালট বাক্স কোনও ভাবেই সুরক্ষিত নয়।”
শুধু বাক্সের নিরাপত্তাই নয়, গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, কতগুলি ব্যালট পেপার কেন্দ্রে এল এবং কতগুলি জমা পড়ল, তার কোনও নির্দিষ্ট হিসাব রাখা হয় না। ফলে ভবিষ্যতে বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
এরই মধ্যে সম্প্রতি রানাঘাটে প্রশিক্ষণ চলাকালীন এক শিক্ষক নিগৃহীত হওয়ার ঘটনার পর ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই আবহেই এবার তাঁদের ভোটদানের নিরাপত্তা নিয়েও সরব হলেন কর্মীরা।
যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এই অভিযোগ পুরোপুরি মানতে নারাজ। কমিশনের এক কর্তা জানান, “নিয়ম অনুযায়ী মুখবন্ধ এবং সিল করা বাক্সেই ভোট গ্রহণের কথা। কোথাও যদি ব্যতিক্রম ঘটে থাকে, তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।” তিনি আরও বলেন, “এ বার নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভোটের নিরপেক্ষতা রক্ষায় যেখানে প্রতিটি ধাপ গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ভোটকর্মীদের ভোটদানের পদ্ধতি নিয়েই যদি প্রশ্ন ওঠে, তা নিঃসন্দেহে প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।





