ক্ষমতার বদলের পর প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চার কেন্দ্রে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আমলাদের রদবদলের পর এ বার রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা ঘিরেও বড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-র নিরাপত্তা বলয়ে। রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, তাঁর জন্য বরাদ্দ অতিরিক্ত নিরাপত্তা এবং বিশেষ পাইলট কারের সুবিধা তুলে নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার বিকেলে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাব বা ‘স্টেটাস’ দেখানোর জন্য সরকারি খরচে নিরাপত্তা দেওয়া হবে না। বৈঠকে তিনি বলেন, “কোনও নেতার উপর নির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা না থাকলে অহেতুক নিরাপত্তা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারি অর্থের অপচয় বরদাস্ত করা হবে না।”
নবান্ন সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্তের জেরে এখন থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সাধারণ সাংসদ হিসেবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইন অনুযায়ী যতটা নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, সেটুকুই পাবেন। তাঁর সঙ্গে থাকা রাজ্য পুলিশের ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ বা SSU-র বড় অংশও প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে অন্য একটি বিষয় নিয়ে। প্রশাসনিক কড়াকড়ির মধ্যেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-র ক্ষেত্রে তুলনামূলক নরম অবস্থান নিয়েছেন শুভেন্দু। কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতার নিরাপত্তায় যেন কোনও গাফিলতি না থাকে।
গত বুধবার সকাল থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ও কার্যালয়ের সামনে থাকা অতিরিক্ত নিরাপত্তা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৯, ক্যামাক স্ট্রিট, ১২১, কালীঘাট রোড এবং ১৮৮এ, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট— এই গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানাগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে যে কড়া নিরাপত্তা বলয় দেখা যেত, তা ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হয়।
বিশেষ করে ১৮৮এ, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থাকা ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। পরে লালবাজারের তরফে জানানো হয়, অতিরিক্ত নিরাপত্তা না থাকলেও প্রোটোকল অনুযায়ী একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যা নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তা বজায় থাকবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর মধ্যে রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট। এক দিকে ক্ষমতার বদলের পর ‘বিশেষ সুবিধা’র রাজনীতিতে লাগাম টানার বার্তা, অন্য দিকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক সৌজন্য বজায় রাখার ইঙ্গিতও মিলেছে এই সিদ্ধান্তে।





