সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললেই বিপদ? সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া নির্দেশ জারি শুভেন্দু সরকারের

On: Thursday, May 21, 2026 10:11 AM
---Advertisement---

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এ বার সরকারি কর্মচারীদের সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য রাখা, প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশ বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও লাগাম টানল নবান্ন। বুধবার প্রশাসনিক ও কর্মিবিন্যাস দফতরের তরফে জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মী সংবাদমাধ্যমের সামনে মন্তব্য করতে পারবেন না।

মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালের সই করা এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত দফতর, জেলা প্রশাসন, কমিশনারেট ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দ্রুত তা অধস্তন অফিসগুলিতে প্রচার করতে হবে এবং কার্যকর করতে হবে।

নবান্ন সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সরকারি কর্মচারীর সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশ এবং প্রশাসনিক তথ্য বাইরে চলে যাওয়া নিয়ে সরকারের অস্বস্তি বাড়ছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এই নতুন নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন নিয়মের আওতায় শুধু আইএএস, ডব্লিউবিসিএস বা পুলিশ সার্ভিসের আধিকারিকরাই নন, রাজ্যের প্রায় সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মচারীকেই আনা হয়েছে। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুরসভা, পুরনিগম, বোর্ড, স্বশাসিত সংস্থা এমনকি জেল কর্মীরাও এই নির্দেশিকার অন্তর্ভুক্ত।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনও কর্মচারী মিডিয়া প্রোগ্রাম, টেলিভিশন আলোচনা বা স্পনসরড অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। কোনও সংবাদপত্র বা সাময়িকীতে লেখা প্রকাশ, সম্পাদনার কাজে যুক্ত থাকা কিংবা রেডিও বা অন্য সম্প্রচার মাধ্যমে বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রেও আগাম অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি হল সরকারি নীতি নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনার উপর নিষেধাজ্ঞা। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না। এমন কোনও বক্তব্য বা লেখা, যা কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক বা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই নির্দেশিকার ফলে সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত মত প্রকাশের পরিসর আরও সঙ্কুচিত হল। যদিও সরকারের দাবি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংবেদনশীল সরকারি তথ্য ফাঁস রোধ করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

নবান্নের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নতুন আচরণবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। নির্দেশিকা ভাঙলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now