নতুন দলে যোগ দিতে চান তৃণমূলের মহুয়া-কীর্তি আজাদ! কী এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’?

On: Wednesday, May 20, 2026 4:41 PM
---Advertisement---

ভারতের রাজনীতিতে মাঝে মাঝেই অদ্ভুত সব রাজনৈতিক পরীক্ষানিরীক্ষা দেখা যায়। তবে এবার যা ঘটল, তা অনেকের কাছেই নিছক ব্যঙ্গ, আবার কারও কাছে সরাসরি প্রতিবাদের ভাষা। সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন এক ‘রাজনৈতিক’ সংগঠন— Cockroach Janata Party বা CJP। নিজেদের পরিচয় দিয়েছে “ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং অলস” দল হিসেবে।

এই গোষ্ঠীর জন্মের নেপথ্যে রয়েছে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত-র একটি বিতর্কিত মন্তব্য। সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, অনেক বেকার যুবক অন্য কোথাও সুযোগ না পেয়ে সাংবাদিকতা, আইন বা সমাজকর্মের মতো পেশায় চলে আসেন। সেই মন্তব্যেরই একাংশকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ওঠে, বেকারদের ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

এর পর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয় বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাস্তাঘাট— নানা জায়গায় প্রতিবাদ দেখা যায়। কেউ শরীরে আরশোলার ছবি এঁকে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, কেউ আবার ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে ভরিয়ে দিয়েছেন এক্স-ফেসবুক।

এই আবহেই তৈরি হয় CJP। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে, যিনি বর্তমানে আমেরিকার Boston University-র ছাত্র। অতীতে তিনি Aam Aadmi Party-র সোশ্যাল মিডিয়া টিমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। আত্মপ্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই এই ভার্চুয়াল সংগঠনের সদস্যসংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে দাবি।

চমক আরও বাড়ে যখন মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ-এর মতো দুই তৃণমূল সাংসদের নাম জড়িয়ে যায় এই ‘দল’-এর সঙ্গে। মহুয়া সমাজমাধ্যমে মজা করে লেখেন, তাঁকে এমনিতেই ‘দেশদ্রোহী পার্টি’র সদস্য বলা হয়, তাই CJP-তে যোগ দিতেও আপত্তি নেই। উত্তরে সংগঠনের তরফে তাঁকে “যোদ্ধা” বলে স্বাগত জানানো হয়।

অন্যদিকে প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা সাংসদ কীর্তি আজাদ জানতে চান, এই দলে যোগ দিতে কী যোগ্যতা লাগে? পাল্টা জবাবে CJP লেখে, “১৯৮০ সালের বিশ্বকাপ জয় করার যোগ্যতাই যথেষ্ট।”

শুধু ব্যঙ্গ নয়, নিজেদের একটি পাঁচ দফার ইস্তেহারও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। সেখানে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের রাজ্যসভায় পাঠানো বন্ধ করা থেকে শুরু করে মহিলা সংরক্ষণ, দলবদল রোধ, সিবিএসই-র খাতা পুনর্মূল্যায়নের অতিরিক্ত ফি বন্ধ এবং ‘নিট’ বিতর্কে পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো দাবি রাখা হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে সদস্যপদের শর্ত নিয়ে। CJP-র দাবি, দলে যোগ দিতে হলে প্রার্থীকে “বেকার ও অলস” হতে হবে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকা এবং “পেশাদারদের মতো ক্ষোভ প্রকাশের ক্ষমতা”ও থাকতে হবে।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের হিসাব বলছে, দেশে বর্তমানে ২১০০-রও বেশি রাজনৈতিক দল রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র কয়েকটিই জাতীয় বা আঞ্চলিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই তালিকায় আদৌ কখনও নাম তুলবে কি না CJP, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ডিজিটাল প্রতিবাদকে যে নতুন ভাষা দিয়েছে এই ‘আরশোলা বাহিনী’, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now