দেশের জনগণনার পদ্ধতিতে আসছে বড় পরিবর্তন। প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় শুরু হতে চলেছে জনগণনা। আগামী ১ এপ্রিল থেকে দেশের একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হবে এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ, যেখানে ঘরবাড়ি ও পরিবারের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
এই জনগণনা হবে দুই পর্যায়ে। প্রথম ধাপে ঘর ও বাসস্থানের অবস্থা, পানীয় জল, স্যানিটেশন, রান্নার জ্বালানি থেকে শুরু করে নানা মৌলিক পরিষেবার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ব্যক্তিগত তথ্য নথিভুক্ত করা হবে। এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে জাতিগত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
Mritunjay Kumar Narayan জানিয়েছেন, “ডিজিটাল ব্যবস্থায় গেলে তথ্য সংগ্রহ আরও নির্ভুল ও দ্রুত করা সম্ভব হবে।” তাঁর কথায়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে গোটা প্রক্রিয়াই হবে আরও কার্যকর।
প্রায় ৩০ লক্ষ গণনাকারী এই কাজে যুক্ত থাকবেন। তাঁদের হাতে থাকবে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ভিত্তিক একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ। ১৬টি ভাষায় কাজ করতে সক্ষম এই অ্যাপটি ইন্টারনেট ছাড়াও ব্যবহার করা যাবে, ফলে দূরবর্তী এলাকাতেও তথ্য সংগ্রহে সমস্যা হবে না।
তবে শুধু গণনাকারীর উপর নির্ভর করতে হবে না সাধারণ মানুষকে। চাইলে স্ব-নিবন্ধন পোর্টালের মাধ্যমে নিজেরাই অনলাইনে তথ্য জমা দিতে পারবেন নাগরিকরা। তথ্য জমা দেওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট আইডি দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে যাচাইয়ের সময় কাজে লাগবে।
প্রথম পর্যায়ের প্রশ্নপত্রে থাকবে ৩৩টি প্রশ্ন। ঘরের ধরন, নির্মাণ সামগ্রী, মালিকানার অবস্থা, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, জল ও স্যানিটেশন সুবিধা, এমনকি স্মার্টফোন, ইন্টারনেট বা যানবাহনের মতো সম্পদের তথ্যও জানতে চাওয়া হবে।
এবারের জনগণনায় কিছু নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও সামনে এসেছে। যেমন, লিভ-ইন সম্পর্ককে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ‘বিবাহিত’ হিসেবেই ধরা হবে, যদি সেই সম্পর্ককে স্থায়ী বলে মনে করা হয়।
প্রশাসনের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে কোনও নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই এবং সমস্ত তথ্য গোপন রাখা হবে। স্ব-নিবন্ধনের সুযোগটি গণনাকারীরা বাড়িতে পৌঁছনোর প্রায় ১৫ দিন আগে চালু করা হবে, যাতে আগাম তথ্য দেওয়া যায়।
পুরো প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে বিপুল অর্থ। লক্ষ লক্ষ প্রশাসনিক ইউনিট এই কাজে যুক্ত থাকবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে এগোবে এই প্রক্রিয়া, আর চূড়ান্ত তথ্য গণনার নিরিখ ধরা হবে ১ মার্চ, ২০২৭-এর মধ্যরাত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডিজিটাল জনগণনা ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা নিতে পারে। দেশের জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসবে বলেই আশা।





