টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রানের বন্যা নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ব্যাটারদের দাপটে উড়ে যাচ্ছে বোলাররা। কিন্তু শনিবার ইডেন গার্ডেন্সে যা ঘটল, তা এই ফরম্যাটের ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি। কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং গুজরাট টাইটান্সের ম্যাচে একসঙ্গে ছ’জন ব্যাটার অর্ধশতরান করলেন। ১৬ হাজারেরও বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন কেকেআরের ফিন অ্যালেন। মাত্র ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে গুজরাট বোলিংকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেন তিনি। অন্য প্রান্তে অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর ব্যাটও সমান তালে কথা বলে। তরুণ ব্যাটার অপরাজিত ৮২ রান করে দলের বিশাল স্কোর গড়ার ভিত তৈরি করেন। শেষ দিকে ক্যামেরন গ্রিনের দ্রুত অর্ধশতরানে ২৪৭ রানে পৌঁছে যায় কেকেআর।
এত বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও সহজে হার মানেনি গুজরাট। শুভমন গিলের ৮৫ রানের ইনিংস দলকে লড়াইয়ে রাখে। সাই সুদর্শন এবং জস বাটলারও অর্ধশতরান করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২১৮ রানেই থামে গুজরাটের ইনিংস। ২৯ রানের জয়ে প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রাখে অজিঙ্ক রাহানের দল।
তবে ম্যাচের ফলাফলের থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে এক বিরল পরিসংখ্যান। এই ম্যাচে মোট ছ’জন ব্যাটার পঞ্চাশের গণ্ডি পেরিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এতদিনে ১৬,৭৭৬টি ম্যাচ হলেও এমন দৃশ্য আর কখনও দেখা যায়নি। ফলে ইডেনের এই ম্যাচ সরাসরি জায়গা করে নিল ইতিহাসের পাতায়।
শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত নজিরও গড়েছেন সাই সুদর্শন। মাত্র ৭৮ ইনিংসে ৩০০০ টি-টোয়েন্টি রান পূর্ণ করে বিশ্বের দ্রুততম ক্রিকেটার হয়েছেন তিনি। এতদিন এই রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার শন মার্শের দখলে। তিনি ৮৫ ইনিংসে এই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন।
সব মিলিয়ে, শনিবারের ইডেন যেন শুধুই একটি ম্যাচের সাক্ষী থাকেনি। ব্যাট-বলের লড়াইয়ের মাঝেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট নতুন এক ইতিহাস লিখে ফেলল কলকাতার মাঠে।








