পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল শুধু রাজ্য রাজনীতির ঘটনাই হয়ে থাকছে না, তাকে জাতীয় মাত্রা দিতে চাইছে বিজেপি। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে— এই মুহূর্তটিকে রাজনৈতিকভাবে বড় বার্তা হিসেবে তুলে ধরতেই চাইছে গেরুয়া শিবির।
আগামী শনিবার, রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডেই শপথ নেবেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই ময়দানে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সময় কম হলেও আয়োজনের জাঁকজমক নিয়ে কোনও খামতি রাখতে নারাজ দল।
এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ— দু’জনেরই শপথ মঞ্চে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। পাশাপাশি রাজনাথ সিংহ, নিতিন গডকড়ী, জেপি নড্ডা-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং শীর্ষ নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিজেপির বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতির উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে।
শপথের আগে রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ বাকি। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অমিত শাহ। সেই বৈঠকেই নির্বাচিত হবে পরিষদীয় দলনেতা, যিনি পরের দিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।
সূত্রের খবর, প্রথম দিন পূর্ণ মন্ত্রিসভার শপথ নাও হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি দু’জন উপমুখ্যমন্ত্রী এবং সীমিত সংখ্যক মন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিজেপির লক্ষ্য স্পষ্ট— বাংলার জয়কে সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা। তাই শুধু কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নয়, বিভিন্ন বিজেপি ও এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফডণবীস, উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিং ধামী, ওড়িশার মোহনচরণ মাঝি-সহ একাধিক মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ মঞ্চে আনার চেষ্টা চলছে।
এত বড় কর্মসূচিকে ঘিরে কলকাতায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রায় তিন হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হবে বলে জানা গেছে। শহরের একাধিক এলাকা ভাগ করে আলাদা টিমের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। উঁচু বাড়ি থেকে নজরদারি, আকাশপথে পর্যবেক্ষণ— সব মিলিয়ে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীরও উপস্থিতি থাকবে।
শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক আবহও তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পরিকল্পনাও রয়েছে। মূল মঞ্চের পাশাপাশি আলাদা সাংস্কৃতিক মঞ্চ তৈরির কথাও ভাবা হয়েছে।
ভিড়ের দিক থেকেও বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে দল। প্রত্যেক বিধায়ককে অন্তত এক হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি যেসব আসনে বিজেপি জিততে পারেনি, সেখান থেকেও সমর্থকদের আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, সকাল ১০টা থেকে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হবে। তবে গোটা কর্মসূচি দীর্ঘ হতে পারে বলে দলের অনুমান।
সব মিলিয়ে, ব্রিগেডের এই শপথ অনুষ্ঠান শুধু নতুন সরকারের সূচনা নয়— এটি হতে চলেছে একটি রাজনৈতিক প্রদর্শন, যার মাধ্যমে বিজেপি বাংলার জয়ের তাৎপর্য গোটা দেশের সামনে তুলে ধরতে চাইছে।





