রাত পোহালেই ব্রিগেডে শুভেন্দুর শপথ, হারের পর মমতার কর্মসূচি কী? একই দিনে বাংলার রাজনীতিতে দুই ছবি

On: Friday, May 8, 2026 10:52 PM
---Advertisement---

শনিবারের কলকাতা যেন একসঙ্গে দেখবে বাংলার রাজনীতির দুই বিপরীত মুহূর্ত। এক দিকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অন্য দিকে একই সময়ে কালীঘাটের বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সদ্যপ্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এটাই মমতার প্রথম প্রকাশ্য আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। ফলে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন কালীঘাটের দিকেও। যদিও কর্মসূচির প্রকাশ্য চরিত্র সাংস্কৃতিক, তবু তার রাজনৈতিক তাৎপর্য উড়িয়ে দিচ্ছে না তৃণমূলের অন্দরমহলও।

দল সূত্রে খবর, তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বকে কালীঘাটের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য জানানো হয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। অনুষ্ঠানে গান গাইবেন সদ্যপ্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo)।

তবে এ বারের আয়োজন আগের মতো বড় মাপের নয়। ক্ষমতায় থাকাকালীন রবীন্দ্রজয়ন্তী কিংবা রাখি পূর্ণিমার মতো অনুষ্ঠান তৃণমূল যেভাবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত করত, এ বার সেই পরিস্থিতি নেই বলেই মনে করছে দলের একাংশ। তাই কর্মসূচিকে তুলনায় সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তৃণমূলের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, শহরের তিনটি জায়গায় অরাজনৈতিক সংগঠন রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চাইলেও তা দেওয়া হয়নি। সেই অভিযোগ নিয়ে দল ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছে।

এ দিকে নির্বাচনে হারের পর সংগঠনের ভিত শক্ত রাখাই এখন তৃণমূলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দলীয় সূত্রের খবর, নেতৃত্বের তরফে নিচুতলার কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় ‘বিজেপির হামলার প্রতিবাদে’ মিছিল করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। যদিও অনেক জায়গাতেই পরিস্থিতি অনুকূল নয় বলে জেলা নেতৃত্বের একাংশ মত দিয়েছে।

এই আবহে শনিবারের কালীঘাটের অনুষ্ঠান শুধুই সাংস্কৃতিক থাকবে, নাকি সেখান থেকেই মমতা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কোনও বার্তা দেবেন, তা নিয়েই জল্পনা বাড়ছে। কারণ, ভোটে পরাজয়ের পরও তৃণমূলের কোর নেতৃত্বের বৈঠক হয়েছে কালীঘাটের বাড়িতেই। ফলে রবীন্দ্রজয়ন্তীর মঞ্চ রাজনৈতিক বার্তার জায়গা হয়ে ওঠে কি না, সে দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now