কয়েক দিনের ঝড়বৃষ্টিতে গরমের তীব্রতা খানিকটা কমেছে কলকাতা ও শহরতলিতে। অস্বস্তিকর গরম থেকে মিলেছে সাময়িক স্বস্তি, তবে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনই এখন নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। কারণ, সামনে আরও কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, রবিবার থেকে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার বেগ বাড়বে, সঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণও। তবে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার দিন সোমবার—যেদিন রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ভোটগণনা। ওই দিন শহরে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে বলে আশঙ্কা।
শুধু শহর নয়, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাতেও একই ছবি। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া-তে রবিবার থেকেই ঝড়ের দাপট বাড়তে পারে। মঙ্গলবার পর্যন্ত গোটা দক্ষিণবঙ্গেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।
সমুদ্রেও পরিস্থিতি অনুকূল নয়। বঙ্গোপসাগর-এ দমকা হাওয়া বইছে, যার জেরে জল উত্তাল। সোমবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গেও চলছে বৃষ্টির দাপট। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং কালিম্পং-এ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলবে বলে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে একাধিক ঘূর্ণাবর্ত। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন বাংলাদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশেও রয়েছে আর একটি সিস্টেম। এই দুইয়ের প্রভাবে সমুদ্র থেকে জলীয় বাষ্প ক্রমাগত রাজ্যে ঢুকছে, যা ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
এদিকে, বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রাও নেমে এসেছে। শনিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কম। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের নিচেই রয়েছে। তবে আগামী এক সপ্তাহে তাপমাত্রার বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।






