২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড়সড় পটপরিবর্তন নিয়ে এল। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর নবান্ন হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। শনিবারই যখন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী, ঠিক তার পরেই বিধানসভার নতুন বিরোধী দলনেতার নাম ঘোষণা করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী দিনে বিধানসভায় ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতির দায়িত্ব সামলাবেন বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
নতুন দায়িত্ব ও নারী শক্তির উত্থান
তৃণমূল পরিষদীয় দলে এবার বড় চমক মহিলা বিধায়কদের গুরুত্ব বৃদ্ধি। শোভনদেবের ডেপুটি বা উপবিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে দুই অভিজ্ঞ মহিলা মুখকে— অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। ধনেখালি থেকে জয়ী অসীমা এবং চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না এবার বিধানসভায় শাসকদলের মোকাবিলায় সামনের সারিতে থাকবেন। পাশাপাশি, তৃণমূল পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফিরহাদ হাকিমকে।
বিপর্যয়ের মাঝেও অবিচল শোভনদেব-ফিরহাদ
এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের ফলাফল অত্যন্ত শোচনীয়। ২৯৩টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টিতে জয় পেয়েছে তারা, যেখানে বিজেপি ২০৭টি আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় এসেছে। হেভিওয়েট মন্ত্রীদের অনেকেই পরাজিত হলেও বালিগঞ্জ থেকে জিতেছেন শোভনদেব এবং কলকাতা বন্দর থেকে নিজের আসন ধরে রেখেছেন ফিরহাদ হাকিম। তবে বড় ধাক্কা এসেছে ভবানীপুরে, যেখানে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন স্বয়ং তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলের এই কঠিন সময়ে যখন অনেক নেতা ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, তখন ব্যতিক্রমী শোভনদেব। দায়িত্ব পাওয়ার পরেই সমাজমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি পুরনো ছবি পোস্ট করে তিনি বার্তা দিয়েছেন, ‘সঙ্গে ছিলাম, সঙ্গে আছি, সঙ্গে থাকব’।
এক নজরে ভোটের পাটিগণিত
২০২৬-এর নির্বাচনে জয়ের ব্যবধান ও ভোটের হার স্পষ্ট করে দিচ্ছে বাংলার জনমত কোন দিকে গিয়েছে:
বিজেপি: ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছে ২০৭টি আসনে।
তৃণমূল কংগ্রেস: ৪০.৮০ শতাংশ ভোট পেলেও আসন সংখ্যা নেমে এসেছে ৮০-তে।
বাম-কংগ্রেস ও অন্যান্য: সিপিএম ৪.৪৫ শতাংশ (১টি আসন) এবং কংগ্রেস ২.৯৭ শতাংশ (২টি আসন) ভোট পেয়েছে। এছাড়া আইএসএফ ১টি ও এজেইউপি ২টি আসনে জয়ী হয়েছে।
নোটা: ০.৭৯ শতাংশ মানুষ নোটাতে ভোট দিয়েছেন।
শনিবার রাতে এই নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণার মাধ্যমে তৃণমূল স্পষ্ট করে দিল যে, বিধানসভার অন্দরে অভিজ্ঞতার ওপর ভর করেই নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে তারা।





