কলকাতার আকাশে বিকেল গড়াতেই বদলে গেল আবহাওয়ার ছবি। মুহূর্তের মধ্যে ঘন কালো মেঘে ঢেকে গেল শহর ও তার পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। দিনের আলো ম্লান হয়ে সন্ধ্যার আবহ তৈরি হয় বিকেলেই। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মেনেই শুরু হয়েছে ঝড়-বৃষ্টির দাপট। পরিস্থিতির জেরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। এর সঙ্গে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের মধ্যে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা উচিত। বিশেষ করে গাছের নীচে বা অস্থায়ী কাঠামোর কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মেঘগর্জন শুরু হলে পাকা বাড়ি বা কংক্রিটের নির্মাণের ভিতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দেশের অন্য প্রান্তে বর্ষা ক্রমশ এগিয়ে চলেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ইতিমধ্যেই কেরল, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, গোয়া এবং মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অংশে প্রবেশ করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু এলাকাতেও বর্ষার অগ্রগতি হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে এখনও পূর্ণাঙ্গ বর্ষা প্রবেশের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আবহাওয়া দফতরের মতে, সেই পরিবেশ ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে। তবে কবে রাজ্যে মৌসুমী বায়ুর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
উত্তরবঙ্গেও আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির জোর বাড়তে পারে। সোমবার আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহারেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রেও আগামী সপ্তাহে ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকবে। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমানে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।
তবে বৃষ্টির এই দফার মধ্যেও তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। আগামী সাত দিনে গরমের চরিত্রে উল্লেখযোগ্য বদল না এলেও ঝড়-বৃষ্টির কারণে অস্বস্তিকর আবহাওয়ার কিছুটা উপশম হতে পারে বলে মনে করছেন আবহবিদরা।






