রাহুলের স্মৃতিতে অভিনব উদ্যোগ! বিনামূল্যে দেখানো হবে অভিনেতার শেষ মুভি ‘ছবিওয়ালা’

On: Friday, April 10, 2026 10:13 PM
---Advertisement---

বাংলা সিনেমায় সচরাচর দেখা যায় না এমন এক উদ্যোগ নিতে চলেছেন একদল নির্মাতা। বাণিজ্যিক লাভ নয়, বরং এক শিল্পীর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার দায় থেকেই তাঁদের নতুন ছবি ‘ছবিওয়ালা’ দর্শকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই এই উদ্যোগ।

নির্মাতা দলের কথায়, “এই ছবির পেছনে কোনও আর্থিক লক্ষ্য নেই। আমরা চাই, রাহুলদার স্মৃতি দর্শকের মধ্যে বেঁচে থাকুক।” সেই কারণেই প্রেক্ষাগৃহে বিনা টিকিটে ছবিটি দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই হল মালিক ও সংশ্লিষ্ট মহলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ছবির নামকরণেও রয়েছে আবেগের ছোঁয়া। প্রথমে ‘নেগেটিভ’ নামে পরিকল্পনা করা হলেও রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণের পর সেটি বদলে ‘ছবিওয়ালা’ রাখা হয়। নির্মাতাদের মতে, এই নাম শুধু একটি গল্প নয়, বরং এক শিল্পীর প্রতি সম্মান ও স্মৃতির প্রতীক।

ছবির কাহিনিও যেন বাস্তবের প্রতিফলন। এক এমন শিল্পীর গল্প উঠে এসেছে, যিনি জীবিত অবস্থায় প্রাপ্য স্বীকৃতি পান না, কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর কাজ নতুন করে মূল্যায়িত হয়। ছবির শেষ দৃশ্যে চরিত্রটির জলে ডুবে মৃত্যুর মুহূর্ত বাস্তবের সঙ্গে এক অদ্ভুত মিল তৈরি করেছে, যা পুরো টিমকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

এই প্রকল্পের নির্মাণযাত্রা ছিল সহজ নয়। সীমিত বাজেট, সময়ের চাপ এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার নানা বাধা সত্ত্বেও ছবিটি শেষ করা গেছে টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। নির্মাতাদের বিশ্বাস, এই ছবির আবেগ দর্শকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করবে।

সংগীতও ছবির অন্যতম শক্তি। সৌম্যঋতের সুরে তৈরি গান ও আবহসঙ্গীত গল্পের আবেগকে আরও তীব্র করেছে। বিশেষ করে রূপম ইসলামের কণ্ঠে একটি গান, যা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে সামনে রেখেই তৈরি। পাশাপাশি কণ্ঠ দিয়েছেন সোমলতা আচার্য্য এবং জোজো মুখার্জি।

নির্মাতার ব্যক্তিগত স্মৃতিতেও বারবার উঠে এসেছে রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তাঁর কথায়, “আমার প্রথম ছবি ‘শহরের উপকথা’-র সময় রাহুলদা পাশে না থাকলে হয়তো এতটা পথ এগোতে পারতাম না।” নতুনদের প্রতি তাঁর আস্থা ও উৎসাহই অনেকের পথচলার ভিত্তি তৈরি করেছিল।

এই প্রেক্ষাপটে ‘ছবিওয়ালা’ শুধু একটি সিনেমা নয়—এ যেন এক অসমাপ্ত যাত্রার দলিল। নির্মাতাদের আশা, বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি এবং দর্শক—উভয়েই এই উদ্যোগকে সমর্থন করবেন, যাতে এক শিল্পীর স্মৃতি ও তাঁর লড়াই আরও অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now