আম আদমি পার্টি (AAP)-র অন্দরে বড় রদবদল। রাজ্যসভার সহকারী দলনেতা (ডেপুটি লিডার) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল তরুণ মুখ রাঘব চাড্ডা-কে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পাচ্ছেন পঞ্জাব থেকে নির্বাচিত শিক্ষাবিদ অশোক মিত্তল। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে আম আদমি পার্টি।
চিঠিতে শুধু পদ পরিবর্তনের কথাই নয়, আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছে দল। আপের বরাদ্দ সময় থেকে ভবিষ্যতে রাঘবকে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে। যদিও সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের।
দলীয় এই সিদ্ধান্তের পেছনে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ কাজ করেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। গত দু’বছর ধরে আপের কর্মসূচিতে নিয়মিত অনুপস্থিত ছিলেন রাঘব (Raghav Chaddha)। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত—দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার কিংবা আবগারি মামলায় মুক্তির পর অরবিন্দ কেজরিওয়াল-এর সঙ্গে দেখা করতেও তাঁকে দেখা যায়নি।
এই প্রেক্ষাপটে তাঁর দলবদলের জল্পনাও নতুন করে জোর পেয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই শোনা যাচ্ছিল, তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
যদিও দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকলেও সংসদে ও সমাজমাধ্যমে বেশ সক্রিয় ছিলেন রাঘব। গিগ কর্মীদের অধিকার, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি কিংবা টেলিকম রিচার্জ সংক্রান্ত সমস্যার মতো নানা ইস্যুতে সরব হতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তিনি যে সব বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তার কয়েকটিতে দ্রুত পদক্ষেপও করেছে কেন্দ্রের ভারত সরকার।
তবে দলের ভেতরে তাঁর সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবের কথাও সামনে এসেছে। বিশেষ করে রাজ্যসভায় আপের নেতা সঞ্জয় সিং-এর সঙ্গে তাঁর দূরত্ব একাধিকবার নজরে পড়েছে।
রাজনীতির বাইরেও ব্যক্তিগত জীবনে আলোচনায় থেকেছেন রাঘব। বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া-র সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং বিনোদন জগতে উপস্থিতি তাঁকে অন্য মাত্রায় পরিচিতি দিয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই—এ কি শুধুই দলীয় পুনর্বিন্যাস, নাকি বড় কোনও রাজনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত? রাঘব চাড্ডার পরবর্তী পদক্ষেপই হয়তো তার উত্তর দেবে।





