গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে কিউআর কোড স্ক্যান, অবৈধ প্রবেশ রুখতে কড়া বন্দোবস্ত কমিশনের, অনুমতি পাবেন কারা?

On: Thursday, April 30, 2026 7:32 PM
---Advertisement---

ভোটগ্রহণ শেষ, এখন চোখ ৪ মে-র গণনার দিকে। ফল ঘোষণার আগে যাতে কোনও রকম অনিয়ম বা নিরাপত্তা ভাঙন না ঘটে, সে জন্য একাধিক নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বার গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ আর শুধু আইডি কার্ড দেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না—যোগ হচ্ছে প্রযুক্তির নজরদারিও।

কমিশন সূত্রে খবর, গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া আইডি কার্ডে যুক্ত করা হয়েছে কিউআর কোড। গণনাকক্ষে ঢোকার আগে সেই কোড স্ক্যান করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা হবে। এর ফলে ভুয়ো পরিচয়ে ঢোকার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে কমিশন।

শুধু প্রযুক্তি নয়, নিরাপত্তার স্তরও বাড়ানো হয়েছে একাধিক ধাপে। গণনাকেন্দ্রে ঢোকার সময় প্রথমে আইডি পরীক্ষা, তারপর গণনাকক্ষের পথে দ্বিতীয় দফা যাচাই, এবং শেষে কক্ষে প্রবেশের মুখে তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা—এই ত্রিস্তরীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে সকল অনুমোদিত কর্মীকে। শেষ ধাপেই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে কিউআর কোড স্ক্যান।

কারা এই বিশেষ আইডি পাবেন, তা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশিকা দিয়েছে কমিশন। রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে কাউন্টিং স্টাফ, টেকনিক্যাল কর্মী, প্রার্থী, নির্বাচন এজেন্ট এবং কাউন্টিং এজেন্ট—শুধুমাত্র এই নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্যই থাকছে প্রবেশাধিকার। এর বাইরে কাউকেই গণনাকক্ষে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে আলাদা নিয়ম। গণনাকেন্দ্রের বাইরে তৈরি করা হবে নির্দিষ্ট মিডিয়া সেন্টার। তবে সেখানে উপস্থিত থাকতে হলে কমিশনের অনুমোদিত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, সকল সাংবাদিকের প্রবেশাধিকার থাকছে না।

নিরাপত্তা জোরদার করতে বাড়ানো হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও। আগে যেখানে ২০০ কোম্পানি মোতায়েন ছিল, সেখানে আরও বাহিনী যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্ট্রংরুম পাহারায় রাখা হচ্ছে অন্তত ২৪ জন করে জওয়ান, যাতে ইভিএমের নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক না থাকে।

এ বার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়েছে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যাতেও। আগের তুলনায় কেন্দ্র কমিয়ে ৭৭-এ আনা হয়েছে, যেখানে ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ভোট গণনা হবে। তুলনায় ২০১৬ সালে ছিল ৯০টি কেন্দ্র, আর ২০২১-এ তা বেড়ে হয়েছিল ১০৮।

সব মিলিয়ে, গণনা প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত, স্বচ্ছ এবং নিরাপদ রাখতে কমিশন যে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার মেলবন্ধন ঘটাতে চাইছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, এই কড়াকড়ি শেষ পর্যন্ত কতটা নির্ভুলভাবে বাস্তবায়িত হয়।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now