গরমের মরশুমে বাড়তে থাকা বিদ্যুতের বিল অনেক পরিবারের কাছেই বড় উদ্বেগের কারণ। এয়ার কন্ডিশনার, কুলার কিংবা অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মাসের শেষে মোটা অঙ্কের বিল গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এই পরিস্থিতিতে বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসিয়ে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর সুযোগ দিচ্ছে কেন্দ্র সরকারের প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ যোজনা।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করা। একইসঙ্গে সাধারণ পরিবারের উপর বিদ্যুৎ বিলের চাপও কমানো এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রকল্পের আওতায় বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হল ভর্তুকি। সৌর প্যানেল বসানোর খরচের একটি বড় অংশ কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার যৌথভাবে বহন করছে। ফলে গ্রাহকদের তুলনামূলকভাবে অনেক কম টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
নিউ অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি বা নেডার তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পে ভর্তুকির সুবিধা পাওয়ার সময়সীমা রয়েছে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত। ফলে যাঁরা সৌর প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের হাতে এখনও কিছুটা সময় রয়েছে।
আবেদন করতে হলে প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনার সরকারি পোর্টালে গিয়ে ‘কনজিউমার’ বিভাগ থেকে ‘অ্যাপ্লাই নাও’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। মোবাইল নম্বর ও ক্যাপচা যাচাই করার পর ওটিপি দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর নাম, ঠিকানা, ই-মেল, রাজ্য, জেলা ও পিন কোড-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে।
আবেদন সম্পূর্ণ হওয়ার পর গ্রাহক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন অনুমোদিত ভেন্ডরের মাধ্যমে সৌর প্যানেল বসাবেন, নাকি স্বাধীনভাবে সেই কাজ করাবেন। সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার অনুমোদন এবং সাইট পরিদর্শনের পর ভর্তুকির অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। সাধারণত সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যেই ভর্তুকির টাকা জমা পড়ে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্যের ছবি সামনে এসেছে। ৯ জুন পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে প্রায় ৪৩ হাজার বাড়িতে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে ১৪৫.৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। অন্যদিকে, ১ লক্ষেরও বেশি বাড়িতে সৌর প্যানেল বসিয়ে বর্তমানে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে লখনউ। সেখানে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুতের পরিমাণ ৩৭৩ মেগাওয়াট।
খরচের হিসাব বলছে, ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি রুফটপ সোলার সিস্টেম বসাতে মোটামুটি ১.২০ লক্ষ টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে কেন্দ্র সরকারের তরফে ৬০ হাজার টাকা এবং রাজ্য সরকারের তরফে ৩০ হাজার টাকা ভর্তুকি পাওয়া যায়। অর্থাৎ মোট ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা মিলতে পারে। ফলে গ্রাহককে তুলনামূলকভাবে অনেক কম অর্থ নিজে বহন করতে হয়।
আরও বড় ক্ষমতার, অর্থাৎ ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত সৌর প্যানেল বসাতে চাইলে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সম্মিলিত ভর্তুকির পরিমাণ সর্বোচ্চ ১.০৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান খরচের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ের পথ খুঁজছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ যোজনা কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। শুধু বিদ্যুৎ বিল কমানো নয়, পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই উদ্যোগ।






