প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার ২৩তম কিস্তির টাকা কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছনোর দিনই কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সামনে এল। শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কীভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা সম্ভব, সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে ফসল বিমা প্রকল্পের উপর।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফসল বিমা অনেক কৃষকের কাছেই এখনও শুধুমাত্র একটি সরকারি প্রকল্প। কিন্তু বাস্তবে এটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়, অতিবৃষ্টি, খরা বা অন্য কোনও কারণে ফসল নষ্ট হলে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি সামাল দেওয়ার অন্যতম ভরসা। তবে বিমার সুবিধা পেতে গেলে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিমার আবেদনপত্রে যে ফসলের নাম উল্লেখ করা হয়, জমিতে বাস্তবে সেই ফসলই চাষ করা হয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আবেদনপত্রে এক ধরনের ফসলের নাম থাকলেও জমিতে অন্য ফসল চাষ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতির পর বিমার দাবি খারিজ হয়ে যেতে পারে বা দীর্ঘদিন আটকে থাকতে পারে।
তাই আবেদন জমা দেওয়ার পর যে রসিদ দেওয়া হয়, তা যত্ন করে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে নথিভুক্ত ফসলের তথ্য সঠিক আছে কি না, সেটিও ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া দরকার।
এ ছাড়াও কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রাখা, মোবাইল নম্বর আপডেট রাখা এবং জমির রেকর্ড, খতিয়ান ও ফসল সমীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ কোনও ক্ষতির ঘটনা ঘটলে এই তথ্যগুলিই দ্রুত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শুক্রবার এক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের ৯.৪৪ কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ১৮,৮৮০ কোটি টাকা স্থানান্তর করেছেন। ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী কিষান যোজনার আগের কিস্তির টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল। এবার ২৩তম কিস্তির অধীনে যোগ্য কৃষকেরা ২ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ফসল বিমার মতো সুরক্ষা প্রকল্পগুলিকে গুরুত্ব দেওয়াও সমান প্রয়োজন। কারণ দুর্যোগের সময় একটি সফল বিমা দাবিই কৃষকের পরবর্তী মরসুমের চাষের ভিত্তি গড়ে দিতে পারে।






