জ্বালানির বাজারে স্বস্তি মিলল না। পাঁচ দিনের মধ্যেই ফের বাড়ল পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম। মঙ্গলবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে দেশের বিভিন্ন শহরে। কলকাতায় পেট্রলের দাম লিটারপিছু প্রায় ১ টাকা বেড়ে দাঁড়াল ১০৯ টাকা ৭০ পয়সায়। ডিজ়েলের দামও বেড়ে হয়েছে ৯৬ টাকা ৮ পয়সা।
এর আগে গত শুক্রবারও জ্বালানির দামে বড়সড় বৃদ্ধি হয়েছিল। তখন কলকাতায় পেট্রলের দাম এক ধাক্কায় ৩ টাকার বেশি বেড়েছিল। সেই বৃদ্ধির রেশ কাটার আগেই আবার নতুন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করল বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজধানী দিল্লিতেও মঙ্গলবার থেকে পেট্রলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৮ টাকা ৬৪ পয়সা। ডিজ়েলের নতুন দাম ৯১ টাকা ৫৮ পয়সা। মুম্বইয়ে পেট্রলের দাম ১০৭ টাকা ৫৯ পয়সা এবং ডিজ়েলের দাম ৯৪ টাকা ৮ পয়সায় পৌঁছেছে। চেন্নাইয়েও দুই জ্বালানির দামই বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা অস্থিরতার প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়েছে। ভারত যেহেতু বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তাই আন্তর্জাতিক দামের ওঠানামার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও।
এই আবহেই সম্প্রতি জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। গত ১০ মে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “পেট্রল-ডিজ়েলের ব্যবহার কম করতে হবে। শহরে মেট্রো থাকলে, সেখানে মেট্রো ব্যবহার করতে হবে। মেট্রোতেই বেশি যাতায়াত করতে হবে। গাড়িতে যাওয়ার দরকার হলে ‘কারপুল’ ব্যবহারের চেষ্টা করুন। অন্যদেরও সঙ্গে বসিয়ে নিন।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বেড়ে গিয়েছে। পেট্রল-ডিজ়েল কেনায় যে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়, তার ব্যবহার কমিয়ে সেই বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে হবে— এটা আমাদের সকলের দায়িত্ব।”
করোনাকালের মতো আবারও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তাঁর সাশ্রয়ের আহ্বানের পরেও চলতি মাসে ইতিমধ্যেই দু’বার জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিরোধীরা কেন্দ্রের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব খুব শীঘ্রই পরিবহণ খরচ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও পড়তে পারে।





