পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। গত ৩০ এপ্রিল রাজ্যে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৭ থেকে কমিয়ে ৭৭ করা হয়েছে। রবিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভা আসনের ভোট কোন কোন কেন্দ্রে গণনা হবে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে।
এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের ভোটগণনার ভৌগোলিক বিন্যাসে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। জেলা ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী কোথায় কতগুলি গণনাকেন্দ্র থাকবে, তা স্পষ্ট করে জানিয়েছে কমিশন। উত্তর ২৪ পরগনা, যেখানে সর্বাধিক ৩৩টি বিধানসভা আসন রয়েছে, সেখানে ভোটগণনা হবে সাতটি কেন্দ্রে। বারাসত, বসিরহাট, বনগাঁ, পানিহাটি এবং ব্যারাকপুর—এই গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্যাম্পাসকে গণনাকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
নদিয়ায় চারটি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ছয়টি এবং মুর্শিদাবাদ ও হুগলিতে পাঁচটি করে গণনাকেন্দ্র রাখা হয়েছে। কলকাতায় মোট পাঁচটি কেন্দ্র—উত্তরে একটি এবং দক্ষিণে চারটি। এছাড়া হাওড়ায় চারটি, কোচবিহার ও পূর্ব মেদিনীপুরে চারটি করে কেন্দ্র নির্ধারিত হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ছোট জেলাগুলিতে যেমন আলিপুরদুয়ার, ঝাড়গ্রাম বা কালিম্পং—সেখানে একটি করে গণনাকেন্দ্র রাখা হয়েছে।
কলকাতার ক্ষেত্রে আলাদা করে নজর কাড়ছে কেন্দ্রগুলির বিন্যাস। শহরের ১১টি বিধানসভা আসনের ভোটগণনা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পাঁচটি আলাদা কেন্দ্রে। এর মধ্যে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনের গণনা হবে। ভবানীপুর, বন্দর, রাসবিহারী ও বালিগঞ্জের মতো কেন্দ্রগুলির জন্য আলাদা আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দক্ষিণ কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও একাধিক আসনকে একত্র করে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গণনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাদবপুর, সোনারপুর বা বেহালার মতো এলাকায় একাধিক বিধানসভা আসনের ভোট একসঙ্গে গোনা হবে নির্ধারিত কলেজ বা আদালত চত্বরে।
নির্বাচন কমিশনের এই পুনর্বিন্যাস প্রশাসনিক দক্ষতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তবে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমানোর ফলে কিছু ক্ষেত্রে চাপ বাড়তে পারে বলেও মত রয়েছে পর্যবেক্ষকদের একাংশের।
ভোটগ্রহণের পর এবার নজর গণনার দিকে। কোথায় কোন কেন্দ্রে ফলাফল নির্ধারিত হবে, তা স্পষ্ট হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলিও এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গণনাকেন্দ্র ঘিরে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।





