ভোটের আবহে বাইক ব্যবহারে কড়াকড়ি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও শুক্রবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নয়—বরং যুক্তিসঙ্গত সীমার মধ্যেই থাকতে হবে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বাইক র্যালি নিষিদ্ধই থাকবে। তবে ভোটের দিন পরিবার নিয়ে বাইকে চড়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকবে না। আবার ভোটের ১২ ঘণ্টা আগে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইকের পিছনে যাত্রী তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।
এর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ-ভিত্তিক বাইক পরিষেবার চালক, গিগ-ওয়ার্কার কিংবা অফিসগামীদের ক্ষেত্রে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগেও বাইক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। তবে সেক্ষেত্রে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে আদালত।
প্রসঙ্গত, এর আগে নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, ভোটের দু’দিন আগে থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাইক চালানো গেলেও পিছনে যাত্রী তোলা যাবে না। সেই নির্দেশে সাধারণ মানুষের অসুবিধার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমনকি জরুরি পরিষেবা, সামাজিক অনুষ্ঠান বা দৈনন্দিন কাজে যাতায়াত নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ায়।
এই পরিস্থিতিতেই আদালতের দ্বারস্থ হন আবেদনকারীরা। শুনানিতে বিচারপতি রাও কমিশনকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “আপনারা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। নাগরিকদের এই ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে।”
শুক্রবারের রায়ে আদালত আরও জানায়, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনকে বিস্তৃত ক্ষমতা দিলেও, তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনের কাঠামো মেনে চলা জরুরি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “আইন এবং বাস্তবতার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। শুধুমাত্র সম্ভাব্য অপরাধের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব করা যায় না।”
একইসঙ্গে আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষাও সমান জরুরি। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই প্রশাসনের প্রকৃত পরীক্ষা।
ফলে ভোটের আগে বাইক ব্যবহারে কড়াকড়ি থাকলেও, তা আর সর্বগ্রাসী নয়—এটাই স্পষ্ট করে দিল হাই কোর্টের এই নির্দেশ।





