আবার ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর ডাক নরেন্দ্র মোদীর, এক বছর সোনা না কেনার আবেদনও প্রধানমন্ত্রীর

On: Sunday, May 10, 2026 11:05 PM
---Advertisement---

করোনার সময়কার অভ্যাসে কি আবার ফিরতে চলেছে দেশ? পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি-সহ একাধিক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আবহে দেশবাসীর উদ্দেশে একাধিক সংযমের বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। পেট্রল-ডিজ়েলের ব্যবহার কমানো থেকে শুরু করে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এ ফের জোর দেওয়া, রান্নায় কম তেল ব্যবহার, এমনকি এক বছর সোনার গয়না না কেনার আবেদনও জানালেন প্রধানমন্ত্রী।

রবিবার তেলঙ্গানার Secunderabad-এ এক জনসভায় বক্তৃতা করতে গিয়ে মোদী বলেন, বিশ্বজুড়ে চলা অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের উপরও গভীর ভাবে পড়ছে। তাঁর বক্তব্য, করোনার সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ধাক্কা খেয়েছিল। তার পর ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আর গত কয়েক মাসে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত পরিস্থিতি জ্বালানি ও অন্যান্য আমদানিনির্ভর পণ্যের বাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের কাছে বড় বড় তৈলকূপ নেই। আমাদের প্রয়োজনের পেট্রল, ডিজ়েল, গ্যাসের বড় অংশ বিদেশ থেকে আনতে হয়। যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে দাম বেড়েছে। তার প্রভাব ভারতের উপরও পড়েছে।”

এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীর কাছে তাঁর আবেদন, অপ্রয়োজনীয় খরচ ও ব্যবহার কমাতে হবে। বিশেষ করে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হওয়ার কথা বলেন তিনি। শহরে মেট্রো পরিষেবা থাকলে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে মেট্রো ব্যবহারের পরামর্শ দেন মোদী। একই সঙ্গে ‘কারপুলিং’-এ জোর দিয়ে তিনি বলেন, একা গাড়ি নিয়ে বেরোনোর বদলে একাধিক মানুষ মিলে যাতায়াত করলে জ্বালানি খরচ কমবে। পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও সড়কপথের বদলে রেলপথ ব্যবহারের কথা বলেন তিনি।

করোনা অতিমারির সময় যেভাবে অফিসের কাজ বাড়ি থেকে এবং অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে চলেছিল, সেই পদ্ধতি ফের চালুর পক্ষে সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “আমরা করোনার সময়ে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করেছি। অনলাইন মিটিং, ভিডিয়ো কনফারেন্স করেছি। এখন ওই ব্যবস্থাগুলিকে আমরা আবার শুরু করলে দেশের উপকার হবে।” তাঁর মতে, এতে শুধু জ্বালানি সাশ্রয়ই নয়, বৈদেশিক মুদ্রাও বাঁচানো সম্ভব হবে।

জ্বালানির পাশাপাশি ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানোরও আবেদন জানান মোদী। তিনি বলেন, ভারতকে প্রচুর পরিমাণে ভোজ্য তেল আমদানি করতে হয়। তাই প্রত্যেক পরিবার যদি অন্তত ১০ শতাংশ তেল কম ব্যবহার করে, তা দেশের অর্থনীতির পক্ষেও উপকারী হবে। তাঁর কথায়, “আমরা যদি তেল খাওয়া কমিয়ে দিই, তাতেও দেশভক্তি হয়। এতে দেশেরও উপকার হবে, শরীরও ভাল থাকবে।”

সবচেয়ে বেশি চর্চা তৈরি হয়েছে সোনা কেনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে। মোদী বলেন, আগামী এক বছর বাড়িতে কোনও অনুষ্ঠান থাকলেও নতুন সোনার গয়না না কেনার সিদ্ধান্ত নিলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “এক সময়ে দেশের সঙ্কটে মানুষ সোনা দান করতেন। এখন দান করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমরা যদি এক বছর সোনা না কেনার সঙ্কল্প করি, তা দেশহিতেই হবে।”

এ দিন কৃষিক্ষেত্রেও সংযমের ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী। রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে আনার অনুরোধ জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশের শিল্প উৎপাদন ও খনিজ সম্পদ আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ার প্রসঙ্গ টেনে শ্রমিক সংগঠনগুলিকেও বার্তা দেন মোদী।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now