অবশেষে জল্পনার অবসান। দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ের পর কোন আসনটি রাখবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কয়েকদিন ধরেই চলছিল জোর আলোচনা। বুধবার বিধানসভায় শপথ নেওয়ার পর সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়ে দিলেন, ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবেই তিনি থাকছেন, আর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিচ্ছেন।
এদিন বিধানসভায় ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রাম নিয়ে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, পালন করব। সংবিধানের নিয়ম অনুসারে নন্দীগ্রাম ছাড়লাম।” একইসঙ্গে তিনি এ-ও স্পষ্ট করেন, বিধায়ক পদ না থাকলেও নন্দীগ্রামের উন্নয়ন ও মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি থেকে তিনি সরে যাচ্ছেন না।
চলতি বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম— দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দু’জায়গাতেই জয়ী হওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, শেষ পর্যন্ত কোন আসনটি তিনি রাখবেন। কারণ সংবিধান অনুযায়ী একজন জনপ্রতিনিধি একসঙ্গে দুটি আসনের বিধায়ক থাকতে পারেন না। বুধবার শপথের পর সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথাই তুলে ধরে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধুমাত্র নির্বাচনী নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত। তাই আসন ছাড়লেও নন্দীগ্রামের প্রতি তাঁর নজর থাকবে। বিজেপির তরফে নতুন প্রার্থী সেখানে দাঁড়াবেন এবং জয়ী হয়ে মানুষের জন্য কাজ করবেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আগামী পাঁচ বছর নন্দীগ্রামের মানুষকে কোনও অভাব বুঝতে দেব না।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নন্দীগ্রাম ছাড়লেও সেই কেন্দ্রকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিয়েই এগোতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে, শপথগ্রহণের পর ভবানীপুরে বিজয় মিছিলেও যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেই তিনি এদিন স্পষ্ট করে দিলেন, প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি দুই কেন্দ্রের মানুষের প্রতিও তাঁর রাজনৈতিক বার্তা সমানভাবে পৌঁছে দিতে চাইছেন।





