ভোট যত এগোচ্ছে, ততই নিরাপত্তা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও ১৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ফলে রাজ্যে মোট বাহিনীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫৫০ কোম্পানিতে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, পরিস্থিতি বিচার করে এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হতে পারে।
এ বার রাজ্যে মাত্র দুই দফায় ভোট— ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। ফল প্রকাশ ৪ মে। ভোটের দফা কমলেও নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন। আগেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দিয়েছিলেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যেই নজিরবিহীন হারে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে সাধারণ পর্যবেক্ষক ছাড়াও পুলিশ ও ব্যয় পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
নিরাপত্তার চিত্রও বদলাচ্ছে দ্রুত। প্রথমে ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হলেও, মার্চের মাঝামাঝি আরও ১৯২০ কোম্পানি যোগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সেই বাহিনীর বড় অংশ রাজ্যে পৌঁছে যায়। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় রুটমার্চ ও টহল শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে নতুন করে ১৫০ কোম্পানি বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। কেন্দ্র জানিয়েছে, ১৮ এপ্রিলের মধ্যে এই বাহিনীকে রাজ্যে মোতায়েন করে কাজে নামানো হবে।
এই অতিরিক্ত বাহিনীর মধ্যে ৯৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী রয়েছে। পাশাপাশি একাধিক রাজ্য থেকে বিশেষ সশস্ত্র পুলিশও আনা হচ্ছে। মিজোরাম, অসম, মেঘালয়, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র, ছত্তীসগঢ় এবং ঝাড়খণ্ড— বিভিন্ন রাজ্য থেকে এই বাহিনী বাংলায় আসছে।
নির্বাচন কমিশনের অনুরোধেই এই বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। কমিশনের যুক্তি, কম দফার ভোট মানেই কম সময়ের মধ্যে বেশি চাপ— ফলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর ঘনত্ব বাড়ানো জরুরি।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, এ বারের নির্বাচনে নিরাপত্তা ঘিরে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। তবে প্রশ্ন থাকছেই— এত বাহিনী মোতায়েন কি ভোটের পরিবেশকে পুরোপুরি শান্ত রাখতে পারবে, নাকি রাজনৈতিক উত্তাপই শেষ কথা বলবে?





