বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই অস্বস্তি বাড়ছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-এর অন্দরে। দলের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন, কেউ পদ ছাড়ছেন, আবার কেউ দলত্যাগের ইঙ্গিতও দিচ্ছেন। এই আবহেই নতুন কবিতা লিখলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই কবিতার নাম ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা— ‘গিরগিটি’।
কবিতার শুরুতেই তীব্র ভাষায় ভোলবদল করা মানুষদের আক্রমণ করেছেন মমতা। তিনি লিখেছেন,
“গিরগিটির থেকেও ভয়ঙ্কর৷
বহুরূপী তো রং বদলায়
তার রোজগারের পন্থায়৷”

এর পরেই কবিতায় উঠে এসেছে স্বার্থ, আর্থিক লেনদেন এবং আত্মসম্মান বিকিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দলের বিরুদ্ধে সরব হওয়া নেতাদের উদ্দেশ্যেই এই বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
নির্বাচনে ফল খারাপ হওয়ার পর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেক নেতা। বুধবারই দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। একই দিনে কলকাতা পুরসভার বরো চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটি থেকেও সরে দাঁড়ান অরূপ চক্রবর্তী।
এতেই থেমে থাকেনি অস্বস্তি। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন ঘোষ-ও দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শুধু বর্তমান বিধায়ক নন, নির্বাচনে পরাজিত এবং দলের পুরনো নেতাদের একাংশের গলাতেও শোনা যাচ্ছে ক্ষোভের সুর।
রাজ্যের একাধিক পুরসভাতেও শুরু হয়েছে পদত্যাগের ধারা। তৃণমূল কাউন্সিলরদের একাংশ পদ ছাড়তে শুরু করায় কয়েকটি পুরবোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে সংগঠনের ভিত যখন চাপের মুখে, তখন মমতার এই কবিতা নিছক সাহিত্যচর্চা নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তৃণমূলের অন্দরের এই টানাপড়েন আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।





