বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গ সফরে রওনা হওয়ার আগে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়েই তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুললেন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে। সূত্রপাত একটি ছ’বছর পুরনো নথি ঘিরে, যা সামনে এনেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
ওই নথিতে পদ্মফুল চিহ্ন-সহ বিজেপির নামাঙ্কিত সিল ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। কমিশন এটিকে ‘ক্লারিক্যাল মিস্টেক’ বলে ব্যাখ্যা করলেও, সেই যুক্তি মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনিক ভুলের আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকতে পারে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। প্রকাশ্যে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ‘‘কমিশনের কাগজে বিজেপি পার্টির স্ট্যাম্প। বিজেপির চিহ্ন। পিছন থেকে খেলছেন কেন? সামনে এসে খেলুন।’’
এই ইস্যুতেই আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে বিষয়টি যে শুধুমাত্র একটি নথির সীমায় আটকে নেই, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের অংশ হয়ে উঠছে, তা স্পষ্ট।
এখানেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। গভীর রাতে তালিকা প্রকাশ কেন—এই নিয়ে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মমতা। তাঁর দাবি, বিচার প্রক্রিয়া আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও দেরি কেন হল, সেই ব্যাখ্যা স্পষ্ট নয়। এমনকি তালিকা তৈরিতে একপাক্ষিকতা রয়েছে কি না, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
প্রশাসনিক স্তরেও হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক রিটার্নিং অফিসার বদলি করা হয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। নির্দিষ্টভাবে কিছু আধিকারিকের বদলি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী শক্তিগুলিকে একজোট হওয়ার বার্তাও দিয়েছেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক মতাদর্শের বিভাজন ভুলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার লড়াইয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যদিও সেই আহ্বানে সাড়া দিতে গিয়ে পাল্টা অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁর মতে, কেন্দ্রের নীতির বিরোধিতা যেমন প্রয়োজন, তেমনই রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধেও লড়াই জারি থাকবে।
এসআইআর সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইনি লড়াইয়ের ফলেই কিছু নাম সামনে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই ইস্যুই ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। তালিকা প্রকাশের পর তা বুথস্তরে দ্রুত পৌঁছে না দেওয়াও তাঁর প্রশ্নের তালিকায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন ঘোষণার আগেই কমিশনের ভূমিকা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে, তা ভোটের আবহকে আরও তীব্র করে তুলছে।





