প্রথম শত্রু বিজেপি, বাম-অতিবামকে এক মঞ্চে আসার ডাক মমতার

On: Saturday, May 9, 2026 5:49 PM
---Advertisement---

বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও বিস্তৃত করতে এ বার প্রকাশ্যে বাম ও অতিবাম দলগুলির উদ্দেশে জোটের আহ্বান জানালেন তৃণমূলনেত্রী Mamata Banerjee। শনিবার, নতুন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র শপথগ্রহণের দিনই কালীঘাটের বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান থেকে বিরোধী ঐক্যের বার্তা দিলেন তিনি।

রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে মমতার বক্তব্য, এখন ব্যক্তিগত বা দলগত অহংকারের সময় নয়, বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক মঞ্চ গড়ে তোলাই জরুরি। তাঁর কথায়, “বাম, অতিবাম, যে কোনও জাতীয় দল, যে যেখানে আছেন, আসুন আমরা জোট বাঁধি। কেউ চাইলে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত আমি অফিসেই থাকব। আমাদের প্রথম শত্রু বিজেপি।”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “এখন এটা ভাবার সময় নয় যে আমি কে, ও কে। শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের তীব্র সংঘাতের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও বামেদের উদ্দেশে মমতার এই প্রকাশ্য আহ্বান রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই প্রস্তাবের জবাবে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সরাসরি সমর্থন বা বিরোধিতা না করে রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করেন। তাঁর মন্তব্য, “জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো।” রাজনৈতিক মহলে এই প্রতিক্রিয়া ঘিরেও শুরু হয়েছে জল্পনা।

কালীঘাটের অনুষ্ঠান থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তোলেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর দাবি, রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে ‘দেশ বাঁচাও গণতান্ত্রিক মঞ্চ’-এর তরফে বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান করার অনুমতি চাওয়া হলেও তা মেলেনি। এমনকি নিজের বাড়ির অনুষ্ঠান আয়োজনেও বাধা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতার কথায়, “সব ডেকরেটারদের মানা করে দিয়েছে। যাতে কেউ কোনও চৌকি না দেয়, প্যান্ডেল না করে। এগুলো যা দেখছেন, সব আমরা নিজেরা করেছি।”

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, “অনেকের বাড়ির সামনেই হুলিগানিজ়ম করছে। অনেক বেনোজল ঢুকে গিয়েছে। পুলিশ পুরো চুপ।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেও অশান্তির অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, পরিবারের সদস্যদেরও ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে।

একই সঙ্গে ২০১১ সালের পালাবদলের প্রসঙ্গ টেনে এনে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। মমতার দাবি, ক্ষমতায় আসার পর তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি। বরং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-কে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ বার তাঁদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি তাঁর ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তৃণমূলনেত্রী।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, “লড়াইটা আমরা জিতেছি। আমাদের হারানো হয়েছে। আগামী দিনে প্রমাণ হবে।” পাশাপাশি তিনি জানান, জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন বিরোধী নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। Sonia Gandhi, Rahul Gandhi, Mallikarjun Kharge, Uddhav Thackeray, Tejashwi Yadav, Akhilesh Yadav, Hemant Soren এবং Arvind Kejriwal-এর নাম উল্লেখ করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। তৃণমূলের ঝুলিতে এসেছে ৮০টি আসন। ভোটের নিরিখেও বিজেপি এগিয়ে রয়েছে প্রায় পাঁচ শতাংশের বেশি ব্যবধানে। তবে এই ফলাফলকে শেষ কথা মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বার্তা স্পষ্ট— পরাজয়ের পরেও রাজনৈতিক লড়াই শেষ হয়নি, বরং নতুন করে শুরু হচ্ছে বিজেপি-বিরোধী মেরুকরণের প্রচেষ্টা।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now