অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee)-এর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে টলিপাড়ায় যখন প্রতিবাদ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুঙ্গে, তখনই নীরবতা ভেঙে মুখ খুললেন চিত্রনাট্যকার-পরিচালক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় (Leena Gangopadhyay)-এর ছেলে তথা প্রযোজক অর্ক গঙ্গোপাধ্যায় (Arka Ganguly)। সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্টে তিনি তুলে ধরেছেন রাহুলের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কাজের অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান।
অর্ক লেখেন, “রাহুলের সঙ্গে প্রথম দেখা প্রায় ১২ বছর আগে। পরে ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। খুব সহজভাবে কথা বলত, কাজ নিয়েও সরাসরি আলোচনা করত।” তিনি জানান, এক সময় কাজের টানাপোড়েনের মধ্যে রাহুল নিজেই ফোন করে কাজের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর কথায়, “রাহুল বলেছিল, ‘আমার এখন কাজের দরকার, তোর প্রথম সিরিয়াল—আমি করব।’ এতটা সরাসরি কথা শুনে অবাকই লেগেছিল।”
পোস্টে উঠে এসেছে ইন্ডাস্ট্রির বাস্তব ছবিও। অর্ক জানান, কম বাজেটের প্রোজেক্টে রাহুল তুলনামূলক কম পারিশ্রমিকে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন। যদিও পরে অন্য একটি সংস্থার বড় অফার পেয়ে সেই প্রোজেক্টে যান তিনি। এই প্রসঙ্গে অর্ক লেখেন, “আমি-ই বলেছিলাম, বেশি টাকা পাচ্ছিস, ওটাই করে নে।”
ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিকটিও তুলে ধরেছেন তিনি। কাজের পাশাপাশি বন্ধুত্ব, রসিকতা, পরিকল্পনা—সবকিছুর স্মৃতি ভাগ করে নিয়ে অর্ক জানান, “রাহুলের মধ্যে একধরনের ছেলেমানুষি উচ্ছ্বাস ছিল। নিজের ছবি বানানোর স্বপ্ন নিয়ে কতটা সিরিয়াস ছিল, সেটা কাছ থেকে দেখেছি।” তবে সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাহুলের মৃত্যু ঘিরে চলা বিতর্ক নিয়েও সরব অর্ক। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “রাহুলের পরিবারের তদন্ত চাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। যদি অবহেলার ১ শতাংশ সম্ভাবনাও থাকে, তদন্ত হওয়া উচিত, প্রতিবাদ হওয়া উচিত।” তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, “প্রতিবাদ যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা এজেন্ডা প্রতিষ্ঠার জায়গা না হয়ে ওঠে।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার ভিডিও প্রকাশের দাবির বিরোধিতাও করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “যে ফুটেজ পরিবারের জানার অধিকার আছে, সেটাকে পাবলিক করার দাবি কি ঠিক?” পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিতে নিরাপত্তা নিয়ে নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্ক।
এই পোস্টের পরই নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। প্রযোজক রানা সরকার (Rana Sarkar) নাম না করে পাল্টা পোস্ট করেন, যা নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ে।
রাহুলের মৃত্যু এখন শুধুই একটি তদন্তের বিষয় নয়, বরং টলিপাড়ার ভেতরের বাস্তব, সম্পর্ক এবং ক্ষমতার সমীকরণও সামনে এনে দিয়েছে। একদিকে প্রতিবাদ, অন্যদিকে পাল্টা বক্তব্য—সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক আরও গভীর হচ্ছে।






