হাসপাতালে দালাল, অকারণ রেফার রুখতে ‘লাইভ নজরদারি’, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

On: Saturday, May 30, 2026 9:28 PM
---Advertisement---

রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের তালিকায় রয়েছে দালালচক্র, অপ্রয়োজনীয় রেফার, চিকিৎসকের অনুপস্থিতি থেকে শুরু করে পরিকাঠামোগত নানা সমস্যা। এবার সেই অভিযোগের মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্যভবন থেকে সরাসরি নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে সরকারি হাসপাতালগুলিকে। চালু করা হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুমও।

শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা করতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, হাসপাতালের ভিতরে কোনও দালালচক্র সক্রিয় থাকলে বা রোগীদের অকারণে অন্যত্র পাঠানো হলে সরকার তা বরদাস্ত করবে না। “হাসপাতালে কোনও দালালচক্র যাতে না চলে, কোনও রোগীকে যাতে রেফার না করে দেওয়া হয়, তা দেখার জন্য আমরা পেশাদার লোক নিয়োগ করছি। এ বিষয়ে জ়িরো টলারেন্স নীতি নেবে সরকার,” বলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইতিমধ্যেই এক গুরুতর অসুস্থ রোগীকে রেফার করার ঘটনায় Medical College Kolkata-এর সুপারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যভবনে গড়ে তোলা হবে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। সেখান থেকেই সারাক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা হবে জেলা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলির পরিস্থিতি। চিকিৎসকরা নিয়মিত উপস্থিত আছেন কি না, রোগীরা সঠিক পরিষেবা পাচ্ছেন কি না, হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার রাখা হচ্ছে কি না কিংবা কোথাও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রয়েছে কি না— সবকিছুই নজরে রাখা হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন বলে জানিয়েছে সরকার।

এদিনই রাজ্যে শুরু হল জরায়ুমুখ ক্যানসারের টিকাকরণ কর্মসূচি। কেন্দ্রের উদ্যোগে সারা দেশে চালু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় এবার পশ্চিমবঙ্গেও বিনামূল্যে টিকা পাবেন কিশোরীরা। মূলত ১৪ বছর বয়সিদের লক্ষ্য করে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের ২৩৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একযোগে টিকাদান শুরু হচ্ছে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০টি ডোজ পাঠিয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব Manoj Agrawal, রাজ্যসভার সাংসদ Samik Bhattacharya, বিধায়ক Sharadwat Mukhopadhyay এবং Indranil Khan। তাঁদের বক্তব্য, মহিলাদের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসার অন্যতম বড় স্বাস্থ্য-সঙ্কট। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক নারী এই রোগে আক্রান্ত হন। তাই প্রতিরোধমূলক টিকাকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যের ছয় কোটিরও বেশি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে একটি নতুন এমস গড়ার জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলির ক্ষেত্রেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। সরকারের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে জমি পাওয়া হাসপাতালগুলিকে নিয়ম মেনে ১৫ শতাংশ শয্যা গরিব রোগীদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিনের কর্মসূচি থেকেই SSKM Hospital-এ ১০০টি নতুন শয্যারও উদ্বোধন করা হয়। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং পরিষেবার মানোন্নয়নে সরকার যে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাইছে, মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক ঘোষণায় সেই ইঙ্গিতই মিলেছে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now