টালিগঞ্জে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে ধোঁয়াশা কাটছে না। ঘটনার পর কেটে গিয়েছে কয়েক দিন, কিন্তু কীভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও উত্তর মেলেনি। এর মধ্যেই প্রযোজনা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন ইন্ডাস্ট্রির একাধিক শিল্পী।
শুক্রবার রাতে টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় ডাকা জরুরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রসেনজিৎ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যে চলে গিয়েছে তাঁকে আর ফেরানো যাবে না ঠিকই, কিন্তু সহজ যেন বড় হয়ে জানতে পারে যে, তার বাবা কেন চলে গেল?”
গত রবিবার ওড়িশার তালসারিতে ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল। ঘটনাকে ঘিরে শুরু থেকেই একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং শুটিং ইউনিটের সদস্যদের বক্তব্যের মধ্যে ফারাক রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি পুলিশের হাতে থাকা ভিডিও ফুটেজের সঙ্গেও মিলছে না সেই বয়ান। ফলে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হচ্ছে—ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?
এই পরিস্থিতিতে প্রযোজনা সংস্থার কাছে জবাব চেয়ে আগেই চিঠি দিয়েছিল শিল্পী সংগঠন। কিন্তু প্রাপ্ত উত্তরে সন্তুষ্ট নয় তারা। ফলে বৈঠকে আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অভিনেতার মৃত্যুর পর প্রথমদিকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন প্রসেনজিৎ। যদিও তিনি শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন। পরে শোক সামলে তিনি যে বক্তব্য রাখলেন, তাতে স্পষ্ট—এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চান তিনি।
এদিকে, এর আগে প্রসেনজিতের বাড়িতেও একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার, পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির আরও একাধিক পরিচিত মুখ। সেই বৈঠকেও মূল দাবি ছিল, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে পিতৃহারা হয়েছে রাহুলের সন্তান। এই প্রেক্ষাপটে ইন্ডাস্ট্রির একাংশের মতে, দায় নির্ধারণ ও সত্য উদ্ঘাটন জরুরি। কারণ, শুধু একটি মৃত্যুর তদন্ত নয়—প্রশ্ন উঠছে শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও ঘিরে।






