ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে স্পষ্ট বার্তা দিল পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। রবিবার নবান্নে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সংস্কার থেকে সরকারি চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি—প্রথম বৈঠকেই নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে “সুশাসন, সুরক্ষা এবং ডাবল ইঞ্জিন সরকারের” নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, “এই সরকার আমিত্বে চলে না, নীতিতে চলে।” প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র “ভয় আউট, ভরসা ইন” বার্তার উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, মানুষের নিরাপত্তা, আস্থা এবং উন্নয়নই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য।
প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আনার উদ্যোগ। এতদিন রাজ্যে চালু না থাকা এই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প দ্রুত কার্যকর করতে স্বাস্থ্য দফতরকে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, বিশ্বকর্মা, উজ্জ্বলা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও এবং পিএম শ্রী-র মতো একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পেও রাজ্যের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্নেও কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। বিএসএফ-এর প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত হস্তান্তরের জন্য মুখ্যসচিব ও ভূমি দফতরকে ৪৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকার “অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের স্বার্থে” কেন্দ্র ও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করেছিল। নতুন সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গও উঠে আসে বৈঠকে। বিজেপির দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে নিহত ৩২১ জন দলীয় কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় ক্যাবিনেটে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিহতদের পরিবারের পাশে সরকার থাকবে।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও একাধিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএস কার্যকর করার লক্ষ্যে রাজ্যকে নতুন আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইএএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
যুব সমাজের জন্য বড় ঘোষণা হিসেবে সরকারি চাকরিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি বন্ধ করা হবে না, তবে উপভোক্তা বাছাইয়ে আরও স্বচ্ছতা আনা হবে। তাঁর বক্তব্য, “কোনও মৃত ব্যক্তি, কোনও অভারতীয়, অবৈধ ব্যক্তির সুযোগ পাবেন না।”
প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই বিজেপি সরকার যে প্রশাসনিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক অবস্থান—দুই ক্ষেত্রেই আগের সরকারের থেকে স্পষ্ট দূরত্ব তৈরি করতে চাইছে, তা এ দিনের ঘোষণাগুলিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।





